• ত্রিবেণীতে মৃতদেহ সৎকার করতে এসে মাথায় হাত বিধায়কের!
    আজকাল | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • মিল্টন সেন: বিকল ত্রিবেণীর দুই বৈদ্যুতিক চুল্লি। মৃতদেহ সৎকার করতে এসে বিপাকে সাধারণ মানুষ। পুরসভার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুললেন বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। মৃত্যুর পরেও যেনও শান্তি নেই।

    হুগলির ত্রিবেণী মহাশ্মশানে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে দু-দু'টি বৈদ্যুতিক চুল্লি। ফলে মৃতদেহ সৎকার করতে এসে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। খরচ বেশি হলেও কাঠে দাহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে দূষণ।

    পান্ডুয়া, মগরা, বলাগড়, পোলবা-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ মৃতদেহ সৎকার করতে ত্রিবেণী আসেন। ভিন জেলা থেকেও মৃতদেহ আসে ত্রিবেণীতে। দু'টি ইলেকট্রিক চুল্লি রয়েছে সেখানে। বর্তমানে সেই দু'টি চুল্লিই বন্ধ। বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে একটি বৈদ্যুতিক চুল্লি। একটি চুল্লিতে কোনওরকমে কাজ চলছিল। সেটিও গত ১৫ দিন ধরে বিকল।

    এদিন ত্রিবেণী শ্মশানের সাবরেজিস্টার বিকাশ সরুই বলেন, দু'টি চুল্লি রয়েছে। একটি ভোটের আগে থেকে বন্ধ। আর একটি প্রায় ১৫ দিন হল বন্ধ। প্রশাসনের কাছে চুল্লি মেরামতের আবেদন করা হয়েছে। মানুষের সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই। এখনও মেরামতের কোনও কাজ শুরু হয়নি। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার তরফে ২৫ জুন নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে, সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঘাটস্থিত দু'টি বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ থাকবে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন গরিব পরিবার, মূলত যাঁরা চাঁদা তুলে মৃতদেহ সৎকার করতে আসেন তাঁরা। বাধ্য হয়ে কাঠে দাহ করতে হচ্ছে। খরচও বাড়ছে কয়েকগুণ।

    সৎকার করতে আসা সঞ্জীব কুন্ডু, পার্থসারথি মণ্ডলরা জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ তাঁরা জানতেন না। জানা ছিল না। এসে বিপদে পড়েছেন। কাঠের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। চুল্লিতে ১ ঘণ্টায় কাজ হয়ে যেত। কাঠে প্রায় ৩ ঘণ্টা লাগছে। বৃষ্টিতে কাঠ ভিজে, আরও সময় লাগছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা দিপালী বিশ্বাস বলেন, "কাঠে পোড়ানো হচ্ছে। প্রচুর ধোঁয়া হচ্ছে। দূষণ হচ্ছে, চোখ জ্বালা করছে। আমাদের থাকতে খুব অসুবিধা হচ্ছে।" ত্রিবেণী শ্মশানে আরও একটি নতুন চুল্লি তৈরি করার কাজ চলছে। কিন্তু পুরনো দু'টি চুল্লি কবে মেরামত হবে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

    পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সপ্তগ্রামের বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ। তিনি বলেছেন, "চুল্লি বন্ধ রয়েছে সেটা তিনি জানেন। চালু করার চেষ্টা করছেন। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। পুরসভার তরফে কোনও  রকম চেষ্টা করা হয়নি। পুরসভা আগে কাজ করানোর জন্য টেন্ডার করেছিল। কিন্তু কাজ করায়নি। তখনও একটা চুল্লি বন্ধ ছিল। একটা চলছিল।বাঁশবেড়িয়া পুরসভার যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি টেন্ডার করেন নি।"

    স্বরাজ বাবু আরও বলেছেন, "আর একটা চুল্লি তৈরি করা হোক। একইসঙ্গে খারাপ হয়ে থাকা চুল্লিটিকে সরানোর ব্যবস্থা করা হোক। পুরসভা কিছুই করেনি।" তিনি জানিয়েছেন, কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি আশাবাদী আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
  • Link to this news (আজকাল)