• দার্জিলিং নিয়ে বড় ঘোষণা মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের
    আজকাল | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • কৌশিক রায়: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের গুরত্ব যে অনেকটাই বেড়েছে তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একাধিক বিধায়ক মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন, বাজেটে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। এবার দার্জিলিং, কালিম্পং এবং মিরিক নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী ডঃ শঙ্কর ঘোষ। 

    রবিবার শিলিগুড়িতে বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় আয়োজিত নর্থ বেঙ্গল কলিং কনক্লেভে দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিককে গ্লোবাল টুরিস্ট ডেস্টিনেশনের রূপ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী এদিন বলেন, দার্জিলিং গ্লোবাল ডেস্টিনেশন হবে। আমি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের সঙ্গে কথা বলেছি। ২৫০০ কোটি টাকা খরচ করা হতে পারে দার্জিলিংয়ের পিছনে।' 

    দ্য কুইন অফ হিলসে বর্তমানে অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী। তিনি জানান, 'দার্জিলিং ছাড়া মিরিক এবং কালিম্পংকেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখন অনেকে এখানে এসে তারপর দার্জিলিং চলে যান। আমরা চাই এখানে এসেও মানুষ থাকুক।' শঙ্কর ঘোষের কথায়, 'মোট ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে মিরিক এবং কালিম্পংয়ের উন্নয়নের জন্য। আমি গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াতের সঙ্গেও কথা বলেছি। পুজোর আগেই কাজ শুরু করে দিতে চাইছি আমরা।' 

    তিনি জানান, গত পাঁচ বছরের রাজ্য বাজেটে দু'বারের বেশি উত্তরবঙ্গের নামই উচ্চারণ করা হত না। সেখানে এবার উত্তরবঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, আইআইটি, এইমস, ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি তৈরি করার ঘোষণা করা হয়েছে। হোটেল কর্ণধারদের জন্য বড় সুখবরের ঘোষণা করে তিনি বলেন, 'হোটেলকে শিল্পের স্ট্যাটাস দোওয়া হবে। পুজোর আগেই এই বিষয়ে বড় ঘোষণা করা হবে। এখানকার হোটেলের কর্ণধাররা যাতে পশ্চিমবঙ্গের অন্য জায়গাতেও হোটেল ব্যবসা করতে পারেন তা নিয়েও ভাবনা চিন্তা করবে সরকার বলে জানান তিনি।' 

    উল্লেখ্য, বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স এবং টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়েছিল এই কনক্লেভের। রবিবার শিলিগুড়ির এক পাঁচতারা হোটেলে এই কনক্লেভে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অজয় এডওয়ার্ড, সমাজসেবী সাদিপ লামা, বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি অশোক কুমার বণিক, বিএনসিসিআইয়ের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ঋত্বিক দাস সহ একাধিক ব্যবসায়ী এবং ছোট এন্টারপ্রনোররা। ঋত্বিক জোর দিয়েছেন রোডম্যাপ তৈরির ওপর। 

    তিনি বলেন, 'তারাপীঠ-দার্জিলিং সহ পশ্চিমবঙ্গে এরকম অনেক জায়গা আছে যেখানে বেড়াতে গেলে সন্ধ্যার পর মানুষের আর কিছু করার থাকে না। ফলে, হোটেল থাকা সত্ত্বেও অনেকে শুধু সেখানে সকালটা কাটিয়ে অন্য কোথাও চলে যান। আমাদের এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে সন্ধ্যার পরেও সেখানে মানুষের কিছু দেখার থাকে। মানুষ রাতে থাকতে পারেন।' চলতি বছরের নভেম্বরেই ফের কনভেনশন করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। 

    অন্যদিকে, অজয় এডওয়ার্ডের বক্তব্য, এর আগে  অনেক বড় বড় শিল্পপতিরা দার্জিলিংয়ে উন্নয়ন নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু ওইটুকুই। কাজ আর কিছু এগোয়নি। তিনি জানান, 'বড় কিছু দরকার নেই। ছোট ছোট সংস্থা এগিয়ে আসুক। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলুক। সমস্যাগুলোর সমাধান হোক।' 

    উল্লেখ্য, শিলিগুড়িতে কনক্লেভের পাশাপাশি দার্জিলিংয়েও সেখানকার ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করেছিল বিএনসিসিআই। সেখানে বিএনসিসিআইয়ের তরফে  জোর দেওয়া হয় দার্জিলিংয়ের শিক্ষা, শিল্প, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং নারীর ক্ষমতায়নের ওপর। রবিবার শিলিগুড়িতে কনক্লেভে উপস্থিত ছিলেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভাস্কর রায়। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিএনসিসিআইকে সবরকম ভাবে সহযোগিতা করবে টেকনো ইন্ডিয়া।
  • Link to this news (আজকাল)