নিষ্ক্রিয় পঞ্চায়েত প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিলীপের!
আজকাল | ০৬ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তরজা। একুশে জুলাই পালন, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে শুরু করে রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরের অচলাবস্থা, একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক মন্তব্য এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি। ‘শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী স্বীকৃত’, একুশে জুলাই নিয়ে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানান, শুভেন্দু অধিকারীকে দলের পক্ষ থেকে বিধানসভার নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাংলার মানুষ তাকে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি দিয়েছে।
তিনি বলেন, "মমতা ব্যানার্জি মানছেন কি মানছেন না, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যারা গণতন্ত্র বা সংসদীয় নিয়ম-নীতি মানে না, তাদের কথায় কী বা আসে যায়!" পাশাপাশি, "রিকশায় চেপে হলেও একুশে জুলাই করব" মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে দিলীপ ঘোষ কটাক্ষের সুরে বলেন, "রিকশাতেই চড়তে হবে, উনি ঠিকঠাকই করছেন। গাড়িতে চড়ার সুযোগ আর ওনার হবে না।" তিনি যোগ করেন, একুশে জুলাইয়ের মতো ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দল এককভাবে কব্জা করতে পারে না।
কংগ্রেসের আন্দোলনের কৃতিত্ব থেকে শুরু করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মৃতদেহ সবকিছুই তৃণমূল ‘কব্জা’ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তৃণমূলের নতুন কমিটি গঠন এবং দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, মমতা ব্যানার্জি চিরকাল একাই ছিলেন, আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন।
তাঁর কথায়, "যে পার্টিটা উনি শুরু করেছিলেন, সেটা এখন সার্কাস পার্টি হয়ে গেছে। লোকে এখন দল ছেড়ে পালাচ্ছে।" বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মানুষ তৃণমূলকে বিরোধী দলের স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু তারা বিধানসভায় এসে কাজ না করে নিজেদের মধ্যে লড়াই করছে। এটি সাধারণ মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। "আমরা শক্ত বিরোধী দল চাই, যারা সরকারের ভুলত্রুটি শুধরে দেবে। কিন্তু ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।" প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের "বাজেটের কিছুই জানতেন না" সংক্রান্ত বিস্ফোরক দাবির জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, বাজেট যে আসলে কোথায় (ট্রেড বিলে) তৈরি হয়, তা সবার জানা।
এতদিন সুবিধা ভোগ করার পর এখন দল ডুবতে দেখে অনেকে সত্যি কথা বলছেন। তৃণমূল একসময় সততার প্রতীক দাবি করত, এখন তা দুর্নীতির প্রতীক হয়ে গিয়েছে। আসল তৃণমূল এবার লুপ্ত হয়ে যাবে।"
রাজ্যের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে প্রধান ও সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সার্টিফিকেট বা জরুরি নথিপত্র না পেয়ে মানুষ ঘুরছেন, থমকে গিয়েছে সরকারি টেন্ডার ও পেমেন্ট।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, প্রায় দুই হাজার নিষ্ক্রিয় প্রধান এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, " যারা জনগণের ভোটে জিতেছেন, তারা অবিলম্বে পঞ্চায়েতে ফিরে কাজ শুরু করুন। এতদিন যারা লুটপাট করেছেন, তারা এখন জনগণের ক্ষোভের ভয়ে পালালে চলবে না। আমি পরিষ্কার মিডিয়ার সামনে বলছি, দরকার পড়লে পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ি থেকে তুলে আনা হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষ বাড়ি ঘেরাও করবে, ডিমের জায়গায় ইট পড়বে।"
জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পরিষেবা না দিলে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেন তিনি। কটাক্ষের সুরে বলেন, "পদত্যাগ করে পাকিস্তান বা বাংলাদেশ যেখানে ইচ্ছা চলে যান, আপত্তি নেই। কিন্তু পরিষেবা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া যাবে না।"