• 'দেড় হাজার টাকার কাজটাও গেল?' মিড-ডে মিলে ইস্কনকে দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ রাঁধুনিরা
    আজ তক | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • Mid-Day Meal Workers Protest in Kolkata: কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিল সাপ্লাইয়ের বরাত ইস্কনকে। কিন্তু যাঁরা এতদিন মিড ডে মিলের রান্না করছিলেন, তাঁদের কী হবে? চিন্তায় রাঁধুনি-কর্মীরা। গত বুধবার সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি, ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন এবং সামাজিক নিরাপত্তার দাবিতে কলকাতায় মিছিল করে মিড ডে মিল কর্মীদের সংগঠন।

    রাঁধুনিরা বলছেন, সরকার বদলের পর পরিস্থিতি ভাল হওয়ার আশার ছিলেন শ’য়ে শ'য়ে মিড-ডে মিল রাঁধুনি ও সহায়িকারা। কিন্তু বর্তমানে সেই সামান্য় কাজও হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন তাঁরা।

    জীবিকা হারানোর আশঙ্কা
    মিড ডে মিল রাঁধুনি দীপালি দাস জানালেন, 'মিড ডে মিল রান্নার কাজে তেমন টাকা নেই। দেড়-দু' হাজার টাকা পাওয়া যায়। তাও প্রতিমাসে টাকা পাওয়া যায় না। তার চেয়ে বাড়ি-বাড়ি রাঁধুনির কাজ করলে আয় বেশি। খাটনিও কম।' রাজ্যে বিজেপি সরকার আশার পর বেতন বৃদ্ধি, সংগঠিত কর্মী হিসাবে নিয়োগের আশা করছিলেন দীপালিরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেড়-দু' হাজার টাকার সংস্থানটুকুও থাকে কিনা, তাই নিয়ে চিন্তায় ভুগছেন তাঁরা। ইসকন দায়িত্ব নিলে যদি ‘সেন্ট্রালাইজড কিচেন’ কনসেপ্ট আসে, তাতে তাঁদের আয়ের একটি পথ বন্ধ হয়ে যাবে বলে দাবি ইউনিয়নের।

    বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে দীর্ঘকাল ধরে যে সমস্ত প্রান্তিক ও গরিব মহিলারা রান্নার কাজ করে কোনও রকমে সংসারে কিছু টাকা দিচ্ছিলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের রুজি-রুটি সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বহু রাঁধুনি কাজ হারিয়ে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়বেন। তাঁদের কথায়, 'আমরা বছরের পর বছর ধরে নামমাত্র ভাতার বিনিময়ে রোদে-জলে পুড়ে বাচ্চাদের জন্য স্কুলে রান্না করেছি। এখন বড় সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে আমাদের পেটে লাথি মারার চক্রান্ত চলছে।' এর পাশাপাশি সেন্ট্রাল কিচেনে তৈরি খাবার দূরের স্কুলগুলিতে পৌঁছানোর পর কতটা তাজা ও গরম থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

    বুধবারের মিছিলে কার্যত শিয়ালদহ থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মৌলালি এবং এজেসি বোস রোডের বিস্তীর্ণ অংশে কিছুক্ষণের জন্য় স্তব্ধ হয়ে যায়। কাজের দিনে আচমকা এই অবরোধের জেরে নাকাল হতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় কলকাতা পুলিশকে।

    আন্দোলনকারী ইউনিয়নগুলির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যদি রাজ্য সরকার ও পুর প্রশাসন অবিলম্বে তাঁদের কাজ রক্ষার লিখিত নিশ্চয়তা না দেয় এবং বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা না করে, তবে আগামিদিনে রাজ্যজুড়ে স্কুল স্তরে মিড-ডে মিল বয়কট সহ আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। 
  • Link to this news (আজ তক)