• 'আমার নাম মমতা, তাই টাকা দেয়নি!' অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার না পেয়ে ক্ষোভ মহিলার
    আজ তক | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • Annapurna Bhandar Project Controversy: ভোট মিটেছে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুত অর্থ অ্যাকাউন্টে না আসায় এবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভের পারদ ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে। ভোটের আগের ‘আশ্বাস’ আর ভোটের পরের ‘বাস্তব পরিস্থিতি’-র মধ্যে ফারাক মেলাতে না পেরে এবার রাজপথে নেমে সোচ্চার হলেন উপভোক্তাদের একাংশ। সোমবার হুগলির গোঘাটে সেই অসন্তোষেরই এক নজিরবিহীন কোলাজ দেখা গেল। বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে উঠে এল তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষ, ক্ষোভ এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে মস্ত বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এক আন্দোলনকারী মহিলার মন্তব্য, ‘আমার নাম মমতা, তাই আমাকে টাকা দেয়নি!’

    হাসিমুখে বলা এই একটি লাইনের ব্যঙ্গে যেমন মিশে থাকল তীব্র শ্লেষ, তেমনই ধাক্কা খেল নতুন সরকারের মেগা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতিও। ক্ষুব্ধ মহিলাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত বকেয়া টাকা না মিললে এবার সরাসরি সরকারি দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

    গোঘাটে ধুন্ধুমার: ব্লক অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ
    হুগলির গোঘাট ২ নম্বর ব্লকে কয়েক দিন আগেই এই একই ইস্যুতে বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছিল। সোমবার সেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ল গোঘাট ১ নম্বর ব্লক অফিসেও। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে এদিন সকাল থেকেই ব্লক অফিসের সামনে সামিল হন এলাকার শয়ে শয়ে মহিলা। ব্লক অফিস ঘেরাও করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলতে থাকেন তাঁরা। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বিডিও অফিসের সামনেই দীর্ঘক্ষণ অবস্থানে বসেন আন্দোলনকারীরা।

    এই বিক্ষোভ চলাকালীনই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা পণ্ডিত নামে এক আন্দোলনকারী মহিলা বলেন, “আমার নাম মমতা, তাই বোধহয় আমাকে টাকা দেয়নি।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি আরও যোগ করেন, “যদি প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়, তাহলে সব যোগ্য মহিলারাই পাবেন। বেছে বেছে কারও অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে আর কেউ বঞ্চিত থাকবেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। ভোটের আগে বলা হয়েছিল ভোট দিলেই টাকা। অথচ সরকার গঠনের পরও কেন বহু মানুষ টাকা পাচ্ছেন না?” ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দ্রুত টাকা না মিললে এবার ব্লক অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: কোথায় টাকা আটকে?
    রাজ্যের আগের তৃণমূল সরকারের আমলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেতেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে চালু হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। সেখানে প্রতি মাসে মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

    রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর গত ৩ জুন থেকে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় অর্থ প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু মাঠের ছবি বলছে অন্য কথা। বহু যোগ্য আবেদনকারীর অভিযোগ, তাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও একটি টাকাও ঢোকেনি। আর সেই কারণেই পঞ্চায়েত অফিস, পুরসভা থেকে শুরু করে বিডিও অফিসের সামনে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবাদের আঁচ।

    কী বলছে শাসক শিবির?
    সাধারণ মানুষের এই ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং ক্ষোভের মুখে পড়ে অবশ্য পিছু হটতে নারাজ শাসক দল বিজেপি। তাদের দাবি, যোগ্য এবং প্রকৃত সমস্ত উপভোক্তাই পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। বিজেপির বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে বিপুল অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ছিল। তাই বর্তমান সরকার প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে যাচাই-বাছাই (Verification) করছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থ প্রদান নিশ্চিত করতেই কিছু ক্ষেত্রে একটু বেশি সময় লাগছে। সংবাদদাতা: পার্থ রাহা
  • Link to this news (আজ তক)