তামিলনাড়ু ৫০ জন বাংলাদেশিকে পশ্চিমবঙ্গে পাঠাল, কবে পদ্মাপারে পাঠানো হবে?
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ জুলাই ২০২৬
অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের মাটিতে থাকতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ থেকে যারা অবৈধ পথে ভারতে ঢুকবে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। এমনকী এক্ষেত্রে ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট করার নীতি নেওয়া হয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি নাগরিক ধরা পড়ল তামিলনাড়ুতে। আর তাদের রবিবার সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গে ফেরত পাঠানো হলো। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ওই বাংলাদেশিদের আনা হলো হাওড়া স্টেশনে। রবিবারই পৌঁছে গেল ৫০ জন বাংলাদেশি।
এই বাংলাদেশিদের নিয়ে আসে তামিলনাড়ু পুলিশের ৪০ জন সদস্যের একটি দল। তিরুচিরাপল্লি-হাওড়া এক্সপ্রেসে করে আনা হয় বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে। পরে দু’টি গাড়িতে করে তাঁদের উত্তর ২৪ পরগনার হরিদাসপুর সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেখান থেকেই বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, বাংলাদেশিদের কারও কাছেই বৈধ কোনও নথি ছিল না। কয়েক বছর আগে দালালের মাধ্যমে ভারতে ঢুকে পড়ে। তারপর পরিচয় গোপন করে তামিলনাড়ুতে কাজ করতে চলে যায় তারা। আটক হওয়া ওই ৫০ জনের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন মহিলা।
কড়া নিরাপত্তায় হাওড়া স্টেশন থেকে দুটি বাসে করে বাংলাদেশিদের উত্তর ২৪ পরগনার হরিদাসপুর সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বঙ্গে রাখা হবে না বলে আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তামিলনাড়ু পুলিশ সূত্রে খবর, তামিলনাড়ুর নানা জায়গা থেকে ওই ৫০ জনকে আটক করা হয়। তাদের সালেম জেলার আট্টুর মহকুমা কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত বিশেষ শিবিরে রাখা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ডিপোর্টের নির্দেশ জারি করা হয়। পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তাছাড়া বিএসএফ সূত্রে খবর, সীমান্তে হস্তান্তরের পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানো হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ডিপোর্টেশনের সময় যেন আইনি অধিকার লঙ্ঘন না হয়। পুলিশ কর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, পুরো প্রক্রিয়া আইন মেনে সম্পন্ন হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মতো প্রত্যেক জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সেখানেই আটক অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হচ্ছে। আর তারপর বাংলাদেসে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।