উৎসবের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার। হুগলির আরামবাগে কালীপুজোর নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন থাকা অবস্থায় বেপরোয়া লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে উৎপল সিংয়ের (৩২)। শনিবার গভীর রাতের এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, সহকর্মী এবং এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। ঘটনায় লরির চালককে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরই এলাকায় হইচই পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা এবং উৎপলের সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে আরামবাগ প্রফুল্ল চন্দ্র সেন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয় তাঁর। হাসপাতালে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
উৎপলের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা। কয়েক ঘণ্টা আগেও যিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তায় দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনিই আর জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন না— এই সত্যটা মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্য থেকে সহকর্মীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগের জয়রামপুর এলাকায় কালীপুজো উপলক্ষে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তিন থেকে চারজন সিভিক ভলান্টিয়ার। গভীর রাতে আরামবাগ থেকে তারকেশ্বরগামী একটি লরি ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। অভিযোগ, বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা লরিটি সোজা ডিউটিরত উৎপল সিংকে ধাক্কা মারে। প্রচণ্ড আঘাতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং গুরুতর জখম হন।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন আরামবাগের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং আরামবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত লরির চালককে আটক করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং অথবা অন্য কোনও কারণে লরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার পর উৎসবের সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করা কর্মীদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।