৫ কোটির সোনার রামচরিতমানস দিয়েছিলেন রামমন্দিরে, প্রাক্তন আইপিএসের সেই উপহার উধাও!
প্রতিদিন | ০৬ জুলাই ২০২৬
রামমন্দিরে (Ram Mandir) বিরাট অঙ্কের চুরি নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তোলপাড়। দিনের পর দিন কী করে সরানো হচ্ছিল ভক্তদের দেওয়া অনুদান, কারা সেই বিপুল অর্থ হাতিয়েছে-সেই নিয়ে এখনও চলছে তদন্ত। তারমধ্যেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার। তিনি জানান, সোনায় তৈরি একটি রামচরিতমানস তিনি মন্দিরে দান করেছিলেন। কিন্তু এখন সেই বহুমূল্য দানের কোনও খোঁজ নেই!
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে এই রামচরিতমানস অর্পণ করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন আইপিএস সুব্রাহ্মণ্যম লক্ষ্মীনারায়ানণ। সোনা, রুপো আর তামা দিয়ে তৈরি এই রামচরিতমানস। তাঁর স্ত্রী সরস্বতীর পরিকল্পনায় তৈরি হয় এই মহামূল্যবান উপহার। মূলত তামা দিয়ে তৈরি হয়েছে পুস্তকের পৃষ্ঠাগুলো। তার মধ্যেই মেশানো হয়েছে সোনা আর রুপো। রামচরিতমানসের পৃষ্ঠাগুলো ১ মিলিমিটার পুরু। মোট ৫২২টি পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ১০ হাজার ৯০২টি পদ। তুলসীদাস রচিত এই বিখ্যাত গ্রন্থটি আওয়াধি ভাষায় লিখিত। অযোধ্যায় মন্দিরের গর্ভগৃহে এই গ্রন্থ রাখা থাকবে বলেই জানা গিয়েছিল সেসময়ে।
কিন্তু আচমকাই উধাও হয়ে গিয়েছে এই বহুমূল্য পুস্তক। লক্ষ্মীনারায়ানণ জানান, প্রাথমিকভাবে কিছুদিন মন্দিরে রাখা ছিল তাঁর দেওয়া রামচরিতমানস। পুণ্যার্থীরা মন্দিরে গিয়ে সেটি দর্শনও করতে পারতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেটি সরিয়ে দেওয়া হয়। কেন? প্রশ্নের জবাবে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের তৎকালীন জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দান হিসাবে যা যা পাওয়া গিয়েছে তার সবকিছু মন্দিরে সাজিয়ে রাখা যাবে না। সেই রামচরিতমানস আপাতত কোথায়? উত্তর নেই কারোর কাছেই।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীনারায়ানণ নিজে ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত। নিজের অবসরজীবনের যাবতীয় সঞ্চয় দিয়ে তৈরি করেছেন রামলালার জন্য বিশেষ উপহার। চেন্নাইয়ের একটি গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা এই বইটি তৈরি করেছে। ২৪ ক্যারাট সোনার তৈরি বইটি তৈরি করতে অন্তত সাড়ে চার বা পাঁচ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ভগবান রামের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে দুবার ভাবেননি প্রাক্তন আইপিএস। কিন্তু সেই ভক্তির উপহার কি যথার্থ সম্মান পাচ্ছে?