রামমন্দিরের অনুদান তছরূপের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল গোটা দেশ। দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সরে দাঁড়িয়েছেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। এর মধ্যেই সোমবার বৈঠকে বসছে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। সেখানে ট্রাস্টের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো থেকে শুরু করে বিতর্কে জড়ানো শীর্ষ কর্তাদের ভাগ্য—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ট্রাস্টের সভাপতি নৃত্য গোপাল দাসের মঠ মণিরাম ছাওনিতে। শেষ মুহূর্তে স্থান বদল হয়েছে। ঠিক হয়েছে, রামমন্দির চত্বরেই বৈঠকে বসবেন ট্রাস্টের সদস্যরা। সোমবার বিকেল ৩টে থেকে শুরু হবে বৈঠক। সভাপতি নৃত্য গোপাল দাস হাসপাতালে ভর্তি। তিনি ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দিতে পারেন। বার্ধক্যজনিত কারণে দিল্লি থেকে অযোধ্যায় যেতে পারেননি প্রবীণ ট্রাস্টি তথা আইনজীবী কে পরাশরণ। তিনিও ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
অনুদান তছরূপের অভিযোগ সামনে আসার পরেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র। সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে কি না, তা ঠিক হবে এই বৈঠকেই। একই সঙ্গে তদন্তকারী স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)-এর অন্তর্বর্তী রিপোর্টও তুলে ধরা হবে সদস্যদের সামনে। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের অডিট না হওয়া আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যালান্স শিট এবং অন্যান্য আর্থিক নথি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। রামমন্দিরের দৈনন্দিন কাজের দেখভালের জন্য একজন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে নতুন নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ট্রাস্টের এক কর্মী দাবি করেছেন, পুরোহিত নিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলি থাকলেও প্রায় ১,৫০০ কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের বেতন কত হবে, তা ঠিক করার কোনও ম্যানুয়াল নেই। তাঁর প্রশ্ন, ‘পুরোহিতদের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাকি কর্মীদের নিয়োগ ও বেতন নিয়ে কোনও নিয়ম নেই কেন?’ দেড় হাজার কর্মীর বেতন বাবদ কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আরও একটি বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই মামলায় ধৃত আট জনের মধ্যে রাম শঙ্কর যাদব ওরফে ‘টিন্নু’ অন্যতম। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ সেবাদার। কিন্তু কী ভাবে মন্দির পরিচালনায় তাঁর প্রভাব এত বাড়ল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ট্রাস্টেরই একাংশ। গত ছয় বছরে ট্রাস্টের কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ২৪টি বৈঠক হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বৈঠকে সব সদস্যরাই উপস্থিত ছিলেন। তবু এত বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক বেনিয়ম কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়েই জোর জল্পনা ছড়িয়েছে।