রামমন্দিরের অনুদান তছরূপের অভিযোগকে সামনে রেখে হিন্দুত্বের রাজনীতিতে শান দিলেন শিবসেনা (ঠাকরে শিবির) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। রবিবার মুম্বইয়ের দাদরে ‘রাম রক্ষা আন্দোলনের’ সূচনা করে হিন্দুদের জেগে ওঠার ডাক দেন তিনি। উদ্ধব বলেন, ‘বিজেপি হিন্দুদের সম্মোহিত করে রেখেছে।’ একই সঙ্গে তাঁর দলই বাল ঠাকরের হিন্দুত্বের প্রকৃত উত্তরাধিকার বহন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দাদরের হনুমান মন্দিরের সামনে ‘রাম রক্ষা স্ত্রোত্র’ এবং ‘মারুতি স্ত্রোত্র’ পাঠ করে আন্দোলনের সূচনা করেন উদ্ধব। রামমন্দির থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা অনুদান তছরূপ করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশের সমস্ত হিন্দুদের বলছি, জেগে উঠুন। যারা ভগবান রামের নামে লুটপাট করছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’ শুধু রামমন্দির নয়, বদ্রীনাথ-কেদারনাথের অনুদানের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন উদ্ধব। সরাসরি বলে দেন, ‘কেদারনাথ-বদ্রীনাথ থেকে শুরু করে অযোধ্যায় পৌঁছেছে। এই সরকার হিন্দুদের লুট করছে।’
রামমন্দিরে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকায় তৈরি সোনার রামচরিত মানস দান করেছিলেন এক আইএএস আধিকারিক। তারও কোনও হদিশ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্ধবের প্রশ্ন, ‘এত সোনা গেল কোথায়?’ তার পরেই হুঁশিয়ারির সুরে বলে দেন, ‘রাম ভক্তরাই রাবণের সোনার লঙ্কায় আগুন ধরিয়েছিল। এ বার অন্যায়ের লঙ্কাও পুড়িয়ে দেওয়া হবে।’
উদ্ধবের আক্রমণের জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি বিজেপি। মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলিতে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ বলেন, ‘তিনি রামের পথ ত্যাগ করেছিলেন বলেই তাঁর দলের এই হাল হয়েছে। এখন তিনি যদি ফের রামের পথে ফিরে আসেন, তা হলে তাঁরই মঙ্গল হবে।’ বিরোধীদের একহাত নিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও। তিনি বলেন, ‘আজ যাঁরা রামমন্দির নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন, একদিন তাঁরাই শ্রীরামের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।’
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে শিবসেনা (ইউবিটি)। ২০২২-এ একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহে মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানোর পাশাপাশি দলের একটা বড় অংশও তাঁর হাতছাড়া হয়। সেই রেশ কাটার আগেই গত মাসে দলের নয় জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ছয় জন যোগ দেন শিন্ডে শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে দলকে নতুন করে চাঙ্গা করতেই উদ্ধব রামমন্দির ইস্যুতে সরব হয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।