১৬ বছর আগে মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। ব্রাজ়িলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল এই মাঠেই। রবিবার রাতে যেন সম্পূর্ণ হলো একটা বৃত্ত। যেখান থেকে শুরু হয়েছিল পথচলা, সেখানেই ইতি টানলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ব্রাজ়িলের তারকা ফুটবলার নেইমার। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে হেরে ব্রাজ়িল ছিটকে যেতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচ শেষে ঘোষণা করেন অবসরের। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পরে নেইমারের এই ঘোষণায় আরও ভেঙে পড়েছেন ব্রাজ়িল ভক্তরা।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এ বার সব শেষ। এখানেই যাত্রা শুরু করেছিলাম আমি। এখানেই শেষ করলাম।’ ১৬ বছরের কেরিয়ার শেষ হলো হার দিয়ে। ছিটকে যাওয়ার যন্ত্রণা দিয়ে। চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি।
ফুটবল ইতিহাসে একটা যুগের যেন অবসান ঘটল রবিবার। চোটসমস্যা, ফর্মের ওঠাপড়া, মাঠের বাইরের একাধিক বিতর্ক পেরিয়েও নেইমার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বকাপে খেলার। সেই সুযোগ দেন কার্লো আন্সেলোত্তি। তবে শেষটা হলো সবচেয়ে বেদনাদায়কভাবে।
৩৪ বছর বয়সি নেইমার তারকা নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেললেন মাত্র ৩৭ মিনিট। চোট নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন তিনি। খেলতে পারেননি গ্রুপপর্বের প্রথম ফুই ম্যাচে। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামেন পরিবর্ত হিসেবে। জাপানের বিরুদ্ধে সুযোগ পাননি। তবে নরওয়ের বিপক্ষে তাঁর উপরে ভরসা রাখেন আন্সলোত্তি।
পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করেন। সেটিই হয়ে থাকল ব্রাজ়িলের জার্সিতে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক গোল। তবে এই গোল যথেষ্ট ছিল না দলকে জেতানোর জন্য। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িল ছিটকে যায় বিশ্বকাপ থেকে।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের পরিসংখ্যান অসাধারণ। ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০টি গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজ়িলের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০১০ সালে অভিষেক হয় জাতীয় দলের জার্সিতে। খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ।
সাফল্য বলতে ২০১২ সালের অলিম্পিক্সে রুপো এবং ২০১৬ সালের অলিম্পিক্সে সোনা জিতেছেন। ২০১৩ সালে জিতেছিলেন কনফেডারেশন্স কাপ। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। ব্রাজ়িল ফুটবলের ইতিহাসে ট্র্যাজিক হিরো এবং সবার অন্যতম প্রিয় ফুটবলার হিসেবে নেইমারের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।