• কমছে রুই-কাতলার উৎপাদন, টান খাবারেও, বাদাবনের বিপদ এখন ‘হেলিকপ্টার মাছ’
    এই সময় | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • নির্মল বসু

    ‘হেলিকপ্টার মাছ’। ভালো নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। এক সময়ে এই মাছ চাষ করে অর্থনৈতিক ভাবে উপকৃত হয়েছেন মাছচাষিরা। কিন্তু বর্তমানে সেই মাছই বিপদের কারণ হয়েছে সুন্দরবনে। দ্রুত গতিতে ওই মাছের বৃদ্ধি এবং অন্যান্য মাছকে খেয়ে ফেলার প্রবণতায় বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাদাবনের মাছচাষিরা।

    উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন খাল, জলাশয় এবং পুকুরের নোনা জলে মাছ চাষ করেন লক্ষ লক্ষ মৎস্যচাষি। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এই বিদেশি প্রজাতির মাছের দাপটে উদ্বেগ বেড়েছে তাঁদের। এক সময়ে বাড়ির অ্যাকোয়ারিয়ামে শৌখিন ভাবে পালনের জন্য আনা হয়েছিল ওই বিদেশি মাছ। বর্তমানে এই মাছ নদী, খাল, পুকুর এবং চাষের ভেড়িতে অবাধে বংশ বিস্তার করেছে।

    মৎস্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, দেখতে শান্ত স্বভাবের হলেও হেলিকপ্টার মাছ স্থানীয় জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। জলজ পোকামাকড়, শ্যাওলা এবং ছোট মাছ ও মাছের পোনা খেয়ে ফেলায় দেশি মাছের খাদ্য সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। সাকার মাছের ধারালো পাখনা অন্যান্য মাছকে সহজেই আঘাত করে। সেই আঘাত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে রুই, কাতলা, মৃগেলের মতো দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ মৎস্যচাষিদের।

    সুন্দরবন এলাকার মাছ চাষি স্বপন মণ্ডলের কথায়, ‘কয়েক বছর ধরেই মেছোভেড়িতে প্রায় প্রতিদিন হেলিকপ্টার মাছ ধরা পড়ছে। ছোট মাছেদের জন্য দেওয়া খাবারের বড় অংশই ওই বিদেশি মাছ খেয়ে ফেলছে। এর ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে চাষিদের।’ কমল দলুই, কাজল মণ্ডল বলেন, ‘কোনও ভাবে একবার পুকুর বা ভেড়িতে এই মাছ ঢুকে পড়লে তাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা অসম্ভব।’ মাছচাষি ওহাব গাজি বলেন, ‘এই মাছ ব্লক থেকে আমাদের দেওয়া হতো মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে চাষিদের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওই মাছ দ্রুত বংশবিস্তার করে অন্য ছোট মাছ খেয়ে ফেলছে।’

    হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও দেবদাস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘এই মাছ মূলত মিষ্টি জলের। আমাদের কাছে আসা এই মাছের নাম ডাম্পি ফিশ। এরা নিকাশি নালায় মশার লার্ভা খায়। পুকুর খালে থাকা মশার লার্ভা খেয়ে চাষিদের সাহায্য করে।’ বিষয়টি নিয়ে মৎস্য দপ্তরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)