বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার আরও এক। রাতভর তল্লাশির পরে আটক করা হলো আরও তিন সন্দেহভাজনকে। ফলে এই ঘটনায় গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে হলো দুই। খুনের মামলার রুজু করে ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। ছিল বারুইপুর থানার পুলিশও। পরিবার গণধর্ষণের অভিযোগ করলেও সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। রবিবার রাতেই ময়নাতদন্ত হয়েছে নাবালিকার। উত্তেজনা সামাল দিতে বারুইপুর-নরেন্দ্রপুর-সোনারপুরে জারি করা হয়েছে BNS-র ১৬৩ ধারা।
শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পরে রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, ১১ বছরের এক নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণের পরে খুন করা হয়েছে। এর পরেই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর লাগোয়া সূর্যপুরে। নাবালিকার দেহ রাস্তায় রেখে অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় এক যুবক গণপিটুনিতে মারা যান। পুলিশ জানায়, তাঁর নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬)। তবে ওই যুবক সত্যিই জড়িত কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ কিছু জানায়নি। এর পরে দেহ উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। রেহাই পাননি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। বিক্ষোভের পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় পুলিশের বড় বাহিনী।
এর পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে নিহত নাবালিকার বাবাকে ফোন করার পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাস নামের এক ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁকে জেরা করছে পুলিশ। মৃতের সঙ্গে সন্দেহভাজন প্রভাসকে শেষবার দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আরও অভিযোগ, শনিবার বিকেলে ওই যুবকের অটোতেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিহত কিশোরীকে। বাকি সন্দেহভাজনদের খোঁজে রাতভর তল্লাশির চালায় পুলিশ। আটক বা ধৃতদের পরিচয় সম্পর্কে এখনো কোনও তথ্য মেলেনি। তবে অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। ধৃতদের একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে খবর। সোমবারই তাঁদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। সূত্রের খবর, ধৃতদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করতে পারে পুলিশ।