• ‘হিন্দুদের সম্মোহিত করা হয়েছে’, মন্দিরের টাকা চুরিতে বিজেপিকে দুষে ‘রাম রক্ষা আন্দোলনে’ উদ্ধব
    প্রতিদিন | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • রাম মন্দিরের কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় এবার হিন্দুত্বের অস্ত্রে শান দিলেন বাল ঠাকরের পুত্র উদ্ধব ঠাকরে। বিজেপিকে তুলোধোনা করে ঠাকরের দাবি, ‘ক্ষমতাকে ব্যবহার করে হিন্দুদের সম্মোহিত করেছে বিজেপি। লুট করা হচ্ছে তাঁদের।’ শুধু তাই নয়, মুম্বইয়ের দাদরায় হনুমান মন্দিরে ‘রাম রক্ষা স্তোত্র’ ও ‘হনুমান চালিশা’ পাঠ করে ‘রাম রক্ষা আন্দোলন’-এর ডাক দিলেন তিনি।

    রাম মন্দিরের অনুদান ও পূজার সামগ্রী চুরির ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এই ইস্যুতে রবিবার বিজেপিকে তুলোধোনা করে উদ্ধব বলেন, “যদি কেউ ভেবে থাকে হিন্দুদের আবেগকে ব্যবহার করে মন্দির লুট করবে, তবে হিন্দুরা তাদের ছাড়বে না।” বিজেপি মুক্ত রামের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “সব হিন্দুদের সবলছু জেগে উঠুন। যারা রামের নামে লুটপাট করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।” এরপরই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বদ্রীনাথ, কেদারনাথ মন্দিরে চুরির অভিযোগ। উদ্ধব বলেন, “কেদারনাথ-বদ্রীনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত, এই সরকার হিন্দুদের লুট করেই চলেছে।”

    এদিকে রাম মন্দিরে সাড়ে ৪ কোটির একটি সোনার রামচরিত মানস উধাও হয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। রবিবার সেই ইস্যুতেও সুর চড়ান উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর প্রশ্ন, “কোথায় গেল এত সোনা? রাম ভক্তরাই রাবণের সোনার লঙ্কায় আগুন ধরিয়েছিল। এ বার অন্যায়ের লঙ্কাও পুড়িয়ে দেওয়া হবে।” চুরির তদন্ত নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান। বলেন, একজন ডাকাতকে তার নিজের করা লুটের তদন্ত করতে বলা যায় না। এই তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা আবশ্যক, নাহলে সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হবে। উদ্ধব বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্রাম নেবেন না। তিনি তাঁর দলের কর্মীদের এই আন্দোলনকে প্রতিটি গ্রামে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। উদ্ধব বলেন, শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে হিন্দুদের জাগিয়েছিলেন, কিন্তু আজ তাদের সম্মোহিত করা হচ্ছে।

    এদিকে উদ্ধবের আক্রমণের পর পালটা মুখ খোলে বিজেপি। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিস বলেন, “উদ্ধব রামের পথ ত্যাগ করেছিলেন বলেই তাঁর দলের এই হাল হয়েছে। এখন তিনি যদি ফের রামের পথে ফিরে আসেন, তা হলে তাঁরই মঙ্গল হবে।” অন্যদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনও এই ইস্যুতে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “আজ যাঁরা রাম মন্দির নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন, একদিন তাঁরাই শ্রীরামের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)