পুলিশি তৎপরতায় বারুইপুর কাণ্ডে আটক আরও ৩! ধৃতদের রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ
প্রতিদিন | ০৬ জুলাই ২০২৬
নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রবিবার দিনভর উত্তপ্ত বারুইপুর। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে জ্বলেছে ক্ষোভের আগুন। দুপুরে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সন্ধেতেই ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। বাকিদের খোঁজে রাতভর চলেছে অভিযান। ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রবিবার মাঝরাতেই আরও ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। বারুইপুর থানার পুলিশের সঙ্গে রাতভর অ্যাকশনে নেমেছিলেন এসটিএফের কয়েকজন সদস্যও। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতেই ধৃতদের টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ধৃতদের পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে এক ধৃতের দাবি, ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষেছিল তারা। সেই মতোই পরিকল্পনা করে নাবালিকা আটক করা ও তার বাবার কাছে থেকে মুক্তিপণ চাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বলে পুলিশকে জানায় এক ধৃত। তবে পরিবার সূত্রে যে খবর পাওয়া গিয়েছে, তাতে তদন্তকারীদের কাছে স্পষ্ট নাবালিকার বাবার কাছে মুক্তিপণ চেয়ে কোনও ফোন আসেনি। আর এখানেই ধৃতদের বয়ানে অসঙ্গতি পাচ্ছে পুলিশ। সোমবারই তাঁদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে। সূত্রের খবর, ঘটনার নাড়িনক্ষত্র জানতে ধৃতদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করতে পারে পুলিশ। নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অ্যাডিশনাল এসপি পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
গতকালই ঘটনার কথা জানতে পেরে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধেয় ফোনে মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাতে ভিডিওকলে নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন অভিষেক। এই ঘটনার দোষীদের ছাড় নয়, সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলে মৃতার মাকে আশ্বাস দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রাতে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দায় সেরেছেন ওই লোকসভার সাংসদ সায়নী সেন। ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে সায়নী ঘোষ লেখেন, এই নারকীয় ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত ও মর্মাহত। এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে দাবি করেন সায়নী। সূত্রের খবর, আজ দুপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে যেতে পারেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
দোষীদের ফাঁসির দাবিতে সরব পরিবার। নতুন সরকারের কাছে নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে অঝোরে কান্না মায়ের। দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়ে মঙ্গলবার পরিবারকে ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন শুরু করে পুলিশ। বারুইপুরের ঘটনায় মোট ৩টি মামলা রুজু হয়েছে। একটি নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের মামলা। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের উপর হামলা, অবরোধ, ভাঙচুর এবং এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে খুনের ঘটনায় আলাদা করে দুটি মামলা রুজু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ।