রামমন্দিরে প্রণামি চুরি: ধৃতদের তালিকায় গাড়ি মেকানিক থেকে শিক্ষক
বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
অযোধ্যা: কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কেউ গাড়ি মেকানিক। কেউ অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মচারী। একজন আবার রামমন্দির ট্রাস্টের মাথায় থাকা ব্যক্তির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। রামমন্দিরে প্রণামি চুরির ঘটনায় ধৃত আটজনের মধ্যে রয়েছেন এমনই নানা ক্ষেত্রের লোকজন। কয়েকবছরেই তাঁদের সম্পত্তি ফুলে ফেঁপে উঠেছে বলে অভিযোগ । তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এক আউটসোর্সিং এজেন্সির মাধ্যমে তাঁদের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের উপর মন্দিরের প্রণামি তথা অনুদানের হিসাব, রক্ষণাবেক্ষণ সহ নানা কাজের দায়িত্ব ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পদের অপব্যবহার করে প্রণামির টাকা সরিয়েছেন অভিযুক্তরা। ইতিমধ্যেই ধৃত আটজনের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি সহ নানা বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
প্রণামি গণনার সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অবিনাশ শুক্লার উপর নগদ টাকার হিসাব মেলানোর দায়িত্ব ছিল। তদন্তে নেমে তাঁর বাড়ি ও অন্যান্য জায়গা থেকে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ, বৈদেশিক মুদ্রা ও গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ লবকুশ মিশ্র আগে গাড়ি সারাতেন। তাঁর কাছ থেকে ১৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মচারী সুভাষচন্দ্র শ্রীবাস্তব এলাকায় আরএসএস কর্মী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ, টাকা নয়ছয়ে বড়ো ভূমিকা রয়েছে তাঁরও। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম অনুকল্প মিশ্রের উত্থানও সন্দেহজনক। অযোধ্যার মিল্কিপুরের বাসিন্দা অনুকল্পের মাসিক বেতন ছিল ১৫ হাজার টাকা। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তাঁর ৬৫ লক্ষের বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। গ্রামে ফার্ম হাউস রয়েছে। দামি বাইকে চড়ে যাতায়াত করেন। একটি গাড়ি কেনারও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।