• রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে আনতে উদ্যোগী মন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিধানসভা অধিবেশনে প্রস্তাব পাশ করে কেন্দ্রে পাঠানোর তোড়জোড়
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • পবিত্র বর্মন, শিলিগুড়ি: রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে উদ্যোগী রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। উত্তরবঙ্গের প্রায় কোটিখানেক মানুষের রাজবংশী ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দিতে পুজোর পরই রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে প্রস্তাব পাশ করে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে বলে জানালেন মন্ত্রী। রবিবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি বেসরকারি ভবনে উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট সাহিত্যিক প্রয়াত গিরিজাশংকর রায়ের জীবনীমূলক গ্রন্থ ‘বাউদিয়া রায়: জীবনের আথারি’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে এমনটাই দাবি করলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী। 

    একটি পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য দীপককুমার রায়, প্রয়াত সাহিত্যিকের স্ত্রী সবিতা রায়, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিত্ রায়, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্লাবন সিংহ, দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজের অধ্যাপক বিনয় বর্মন প্রমুখ। 

    বই প্রকাশ অনুষ্ঠানের মঞ্চে মন্ত্রী বলেন, উত্তরের বৃহত্ জনগোষ্ঠীর ভাষা রাজবংশী-কামতাপুরিতে বহু সাহিত্যিক উপন্যাস, নাটক, কাব্য লিখেছেন। কয়েক দশক আগে তাঁদের হয়ত যথার্থ মূল্যায়ন হয়নি বা স্বীকৃতি পাননি। বর্তমানে তাঁদের জীবনী, সাহিত্য প্রতিভা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা দরকার। একইসঙ্গে আনন্দময়ের সংযোজন, পুজোর পরই আমরা বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করে কেন্দ্রে পাঠাব, যাতে রাজবংশী ভাষা অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হয়। আমাদের নির্বাচনি ইস্তাহারেও এই ইস্যু ছিল। 

    রাজবংশী এবং কামতাপুরি ভাষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। বিতর্ক এড়াতে তত্কালীন রাজ্য সরকার রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমি এবং কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমি তৈরি করে দিয়েছিল। একই ভাষার দুই নামে আপত্তি ছিল উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্রদের। আগামী আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা জনগণনায় উত্তরের ভূমিপুত্ররা যাতে ভাষা হিসাবে একটি নামই উল্লেখ করেন, সেবিষয়েও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর পরামর্শ, প্রয়োজনে ভাষাবিদ ও গবেষকরা আলোচনায় বসে সমস্যা মিটিয়ে নিতে পারেন। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)