• রাজনৈতিক নেতা, ক্ষমতাধররা যা খুশি তা করবেন, আর চলবে না: শংকর ঘোষ
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাজনৈতিক দলের নেতা বলেই হেলমেট না পড়ে বাইক চালাব। ক্ষমতাধর বলে যা খুশি, তাই করব। শিলিগুড়ি শহরে এসব আর চলতে দেওয়া যাবে না। রবিবার শহরে ট্রাফিক মার্শালদের রাস্তায় নামানোর অনুষ্ঠানে একথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি বাস চালক সহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করার পরামর্শ পুলিশকে দিয়েছেন। এদিকে, যানজট নিয়ন্ত্রণে রাজ্যে এই প্রথম চালু হল ট্রাফিক মার্শাল। এঁরা কলকাতা পুলিশের সার্জেন্টদের মতো যান নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন কার্যকর করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। 

    পুলিশ-প্রশাসন নিয়মিত ধরপাকড়, সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালালেও শহরে বিনা হেলমেটে বাইক চালানোর প্রবণতা কমেনি। যুবক-যুবতী থেকে রাজনৈতিক দলের নেতারা হেলমেট না পরেই বাইক চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এদিন শহরের মৈনাক ট্যুরিস্ট লজে ট্রাফিক পুলিশের অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে সরব হন পর্যটনমন্ত্রী। বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতা বলে হেলমেট পরবেন না, তাঁর সঙ্গে যাঁরা যাবেন, তাঁদের মাথায় হেলমেট থাকবে না। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের দেখবে পুলিশ। এই জিনিস শহরে আর চলবে না। 

    এখানেই হেলমেট সকলকে পরার বার্তা দেন পর্যটনমন্ত্রী। বলেন, ক্ষমতাধর বলে যা খুশি, তাই করবেন, এই নীতি থেকে সরে আসতে হবে। সকলকে আইন মেনে চলতে হবে। হেলমেট সকলকে পরতে হবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ফোন ধরবেন না। 

    এদিকে, শহর ও আশপাশ এলাকায় বেপরোয়াভাবে যান চলাচলের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যারজেরে মাঝেমধ্যেই এখানে পথ দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগে পর্যটনমন্ত্রী নিজেও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এদিন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে রাস্তার বাঁ পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। প্রায় আমার গা ঘেঁষে একটি বাস বেরিয়ে গিয়ে দাঁড়ায়। এভাবে বাস চালানো নিয়ে প্রশ্ন করলে চালক জানান, আপনাকে দেখিনি দাদা। সরি। তাই বাস সহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের নিয়ে ট্রাফিক আইনের বিষয়ে সচেতনতা শিবির করতে হবে পুলিশকে। 

    এদিকে, রাজ্যে এই প্রথম ট্রাফিক মার্শাল রাস্তায় নামানো হল বলে দাবি করেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। এদিন পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা বলেন, আপাতত শহরের হিলকার্ট রোড, সেভক রোড, বিধান রোড প্রভৃতি এলাকায় লাল ও নীল বাতিযুক্ত বুলেট নিয়ে টহল দেবেন ট্রাফিক মার্শালরা। এঁরা যানজট সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেবেন। পর্যায়ক্রমে শহরের প্রতিটি ট্রাফিক গার্ডে নিয়োগ করা হবে ট্রাফিক মার্শাল। এখন শহরের হিলকার্ট রোডে যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। তা আরও হবে। • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)