• জারি নোটিস, তবুও ঘর ছাড়তে নারাজ সালারের রেল বস্তির পরিবারগুলি ,বর্ষার তিন মাস ছাড়ের দাবি
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কান্দি: ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার নোটিস ধরানো হয়েছে চারদিন আগে। তার উপর হালকা বৃষ্টিতেই ফুটো চাল দিয়ে জল পড়ছে ঘরে। তবুও ঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না সালারের রেলবস্তির ৩৫টি পরিবার। স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন ছোটো থেকে সত্তরোর্ধ সবাই। চাইছেন অন্তত বর্ষার তিনমাস তাঁদের এখানেই থাকার সুযোগ দেওয়া হোক।

    সালারের ওই রেল বস্তিতে কেউ কাটিয়েছেন ২০ বছর তো কেউ আরোও বেশি। কেউ পেশায় দিনমজুর তো কেউ স্বামীহারা পরিচারিকা। এতদিন তাঁরা সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর অন্তত নিজের আস্তানা ভেবে নিশ্চিন্তে রাত কাটাতে পারতেন ওই বস্তিতে। কিন্তু গত শুক্রবার সেই আস্তানা দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুস্থ পরিবারগুলির কাছে। ওইদিন রেল পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারগুলিকে বস্তি খালি করার নির্দেশ দিয়ে নোটিস ধরানো হয়। এরপরেই ঘুম উড়েছে তাঁদের। আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে ঘর না ছাড়লে চলবে বুলডোজার।

    শনিবার ওই বস্তিতে ভাঙা টালির বারান্দায় বসেছিলেন সত্তরোর্ধ সাদেয়া বিবি। কেঁদে বললেন, বাপ, কোথায় যাবো? সাতকুলেও কেউ নেই। এই পাড়ার লোকজনই আমার আত্মীয়। আমি চাইব, যখন বুলডোজার দিয়ে ঘরের ইট কাঠ সরিয়ে ফেলবে, তখন আমাকেও যেন ওই সবের মধ্যে বুলডোজার দিয়ে তুলে ফেলে দেওয়া হয়। 

    নাজমা খাতুনের কথায়, ছেলেপুলে নিয়ে কোথায় যাব জানি না। বাড়ি ছেড়ে পালাতেও পারব না। যা আছে কপালে তাই হবে। প্রবীণ আজিবুল শেখ বলেন, একদিন এমন হবে সবাই জানতাম। উঠে আমাদের যেতেই হবে। তাই সরকারের কাছে আরজি জানাচ্ছি যেন এই বর্ষার তিনমাস থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। বস্তির সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

    তবে ওই সব বস্তিবাসীর কাছে আশার আলো এতটুকুই যে এবার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য গোলাম মওলা বলেন, বস্তিবাসীদের নিয়ে একাধিকবার মিটিং হয়েছে। ওঁদের নিয়ে আমরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছি। কারণ যে জায়গা রেল নিজেদের বলে দাবি করছে, তার দলিল দস্তাবেজও রেলকে দেখাতে হবে। যেটা রেলের পক্ষে কখনো সম্ভব নয়। 

    ভরতপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায় জানান, বস্তি উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে লড়ছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আমরা আশাবাদী  নিশ্চয় কোনো একটা সুরাহা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)