• অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় সংসারে অশান্তি, বিপাকে কর্তারা
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমনই তার প্রভাব পড়েছে সংসারেও। প্রশাসনিক দপ্তরে বিক্ষোভ ও নানা অভিযোগের পাশাপাশি এখন বাড়ি বাড়ি তৈরি হচ্ছে অশান্তির পরিবেশ। বহু পরিবারের অভিযোগ, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্পের টাকা না মেলায় কোথাও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য, কোথাও আবার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক হচ্ছে।

    বহু পরিবারের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা থেকে যোগ্য মহিলারা বাদ পড়ায় তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তার প্রভাব পড়ছে সংসার জীবনে। আবার যখন দেখছেন তাঁরই প্রতিবেশী ওই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন তখন ক্ষোভ আরও বাড়ছে। ছোটখাটো ব্যাপারে অশান্তি বেঁধে যাচ্ছে। চাপ পড়ছে বাড়ির কর্তাদের উপর। যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের হাতে কিছুটা অর্থ তুলে দেওয়া, সেই প্রকল্প এখন অনেক পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    টাকা না পাওয়া মহিলাদের অভিযোগ, ভোটের আগে বারবার বলা হয়েছিল, সকল মহিলা মাসে মাসে তিন হাজার টাকা করে পাবেন। সেজন্য প্রচুর মহিলা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু, ভোট শেষ হওয়ার পর জানানো হয়, শুধুমাত্র যোগ্য মহিলারা এই প্রকল্পে টাকা পাবেন। এখন টাকা দেওয়া শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে, যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁরাই টাকা পাননি। সমস্যা আরও বেড়েছে যখন দেখা যাচ্ছে, একই পাড়ার কিংবা পাশাপাশি দু’টি বাড়ির একজন টাকা পেয়েছেন, অন্যজন পাননি। তখনই সবচেয়ে বেশি অশান্তি হচ্ছে। একটি পরিবারের কর্তা সত্য সরকার জানান, সবাইকে এই প্রকল্পে সুবিধা দিলে কোনো সমস্যাই হত না। এখন বাইরে থেকে বাড়িতে ঢুকলে শুনতে হচ্ছে একটাই কথা, ‘আমার টাকা এখনো ঢোকেনি’। দীপা বিশ্বাস নামে এক মহিলা জানান, মে মাসে কোনো ফর্ম ফিলআপ না করেই জুন মাসে ৩০০০ টাকা পেয়েছেন। কিন্তু, জুলাই মাসে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। অথচ জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্নপূণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ করেছিলেন। কিন্তু, তাঁর ফর্ম ‘রিজেক্ট’ হয়ে গিয়েছে। কী ভুল হয়েছে বুঝতে পারছেন না। এখন খুব খারাপ লাগছে।  টাকা না পাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে। এবিষয়ে কৃষ্ণনগর-১ এর বিডিও গার্গী দাস বলেন, অ্যাপ্লিকেশন ভেরিফাই করে প্রসেস হতে কিছুটা সময় লাগছে। যোগ্যরা সকলেই ধাপে ধাপে টাকা পাবেন। এদিকে টাকা না পেয়ে শুক্রবার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতের ক্ষুব্ধ মহিলারা বিডিও অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্যামলী বিশ্বাস, অর্পিতা বিশ্বাস, তিথি বারুই বলেন, শুরু থেকেই এই টাকা পাওয়ার জন্য কতবার নিয়ম বদলাল। টাকা পাওয়ার জন্য ডিবিটি লিংক থেকে অনলাইন ফর্ম ফিলআপ কত কিছু করতে হল। তার পরেও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনটা যে হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)