• নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন! রণক্ষেত্র বারুইপুর, গ্রেপ্তার ১, যুবককে পিটিয়ে হত্যা, পুলিশকে মার
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বারুইপুর: এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বারুইপুর। শনিবার বিকালে বান্ধবীর জন্য জন্মদিনের উপহার কিনতে বেরিয়েছিল ১২ বছরের ওই কিশোরী। আর বাড়ি ফেরেনি। মেয়ের খোঁজে রাতভর ঘরবার এক করেছে গোটা পরিবার। রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ওই স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি নিথর দেহ। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকা। দেহ রাস্তায় রেখে টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হয় প্রবল বিক্ষোভ-অবরোধ। শিয়ালদহ-লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় ট্রেন চলাচলও ঘণ্টাখানেকের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। অবরোধ তুলতে গেলে আক্রান্ত হয় পুলিশ। তাদের দিকে শুধু ইটবৃষ্টিই হয়নি, ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশ ক্যাম্প-গাড়ি। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় সন্দেহভাজন এক অভিযুক্তেরও। পরিস্থিতি সামলাতে শেষপর্যন্ত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দোষীদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দিলে দুপুর ২টো নাগাদ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। আগামী মঙ্গলবার নাবালিকার বাবাকে ভবানীভবনে দেখা করতেও বলেছেন শুভেন্দু। নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাস্থলেও যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ‘আমি একাই যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাড়ির সামনে এক হাজার পুলিশ। আমাকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।’ বারুইপুরের পরিস্থিতি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও।

    থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে নাবালিকার পরিবার। পুলিশ আপাতত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম প্রভাস সর্দার। বাকিদের সন্ধান পেতে ৬ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। খুনের কারণ নিয়ে অবশ্য এখনও ধোঁয়াশায় পুলিশ। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ অধিকারিক বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই জানা যাবে ধর্ষণ হয়েছে কি না। খুনের মামলা শুরু হয়েছে।

    মৃত ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, শনিবার বান্ধবীর জন্মদিন বলে মেয়ে বিকাল সাড়ে চারটের পর বেরিয়ে উপহার কিনতে যায়। ওকে রাস্তা থেকে ভুল বুঝিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার এক স্কুলের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মেয়েটিকে একটি অটোয় উঠতে দেখা গিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় অটোটি ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে গ্রামেরই এক যুবকের। এদিন সকালে তাঁকে দেখতে পেয়ে তেড়ে যান স্থানীয়রা। চলে ব্যাপক মারধর। গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে প্রথমে পুলিশ সেখানে ঢুকতে পারেনি। পরে বারুইপুর, জয়নগর, সোনারপুর ও ক্যানিং থানার বিশাল বাহিনী এসে আধমরা অবস্থায় ওই অটোচালককে উদ্ধার করে। বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপর অবরোধ তুলতে এলে আক্রান্ত হয় পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে, লাঠিচার্জ করেও উত্তেজিত জনতাকে সরানো যায়নি। পালটা পুলিশের দিকে উড়ে আসে ইঁট ও বোতল। বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী জখম হন। কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চলে। আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। ঘটনাস্থলে যান আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বারুই সহ পুলিশের শীর্ষকর্তারা। কঙ্করবাবুর ফোন থেকে মুখ্যমন্ত্রী কথা বলেন মৃতার বাবার সঙ্গে। তারপর ওঠে অবরোধ।
  • Link to this news (বর্তমান)