• নতুন পুরবোর্ড নিয়ে তৃণমূলকে তোপ বিজেপির, ‘সেটিং’ তত্ত্ব ভাঙতে আসরে গেরুয়া শিবির
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কামারহাটি পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তারপর থেকেই বিজেপি-তৃণমূলের ‘সেটিং’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিজেপির অন্দরেও শুরু হয়েছে কানাকানি। রবিবার কামারহাটির নীলগঞ্জ রোডের টিচার্স কলোনির রক্তদান শিবিরে তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। এদিন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে বলেন, ‘মানুষের ভুল ধারণা হয়েছে। তাঁরা ভাবছেন, কামারহাটির নতুন বোর্ডের পিছনে রয়েছে বিজেপি। আমরা স্পষ্ট বলছি, তৃণমূলের চোরদের সঙ্গে আমাদের দলের কোনো যোগ নেই।’ এদিনের অনুষ্ঠান থেকেই তৃণমূল কাউন্সিলার ও নেতাদের কড়া বার্তা দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। 

    গত শুক্রবার কামারহাটি পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সমর্থিত নির্দল কাউন্সিলার সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর  অন্যতম পরিচয়, তিনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা। কয়েক দিন আগে লকেটদেবী কামারহাটির ‘বাহুবলী’ বাবু মণ্ডল আয়োজিত জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় হাজির ছিলেন। সেখানে সুশান্তবাবুসহ অন্যান্য তৃণমূল কাউন্সিলাররাও ছিলেন। এনিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই আবহে রবিবারের রক্তদান শিবির নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে ছিল। সেই অনুষ্ঠানে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার নানা ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। বলেন, ‘অনেকেই দেওয়ালে বসে আছেন। ভাবছেন, তৃণমূল থেকে টুপ করে এপারে লাফ দিয়ে চলে আসব, তাহলে আমার তোলাবাজির ব্যবসাটা আগের মতোই থাকবে! তাঁদের স্পষ্ট বলে দিতে চাই, এই দলের নাম ভারতীয় জনতা পার্টি। কবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মতো সুদর্শন চক্র চালিয়ে দেবে, কিছুই টের পাবেন না।’ সেখানেই বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পুরসভায় পদত্যাগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কিন্তু কামারহাটিতে রহস্যজনকভাবে কী আগুন তৈরি হল? এক চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান হল। কিন্তু চোরগুলো সব থেকে গেল। তাই কামারহাটির অনেকের ধারণা হয়েছে, বিজেপি বোধ হয় এর সঙ্গে যুক্ত। আমি স্পষ্ট ভাষায় উচ্চ নেতৃত্বের সামনেই বলছি, বিজেপি তৃণমূলের চোরদের প্রশ্রয় দেয়নি। আগামী দিনেও দেবে না।’ এরপর আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘প্রত্যেকটা কাউন্সিলারের নাম ধরে ধরে আমি বলে দেব, কে কত তোলাবাজি করেছে। কোন প্রোমোটার, কোন বিল্ডার, কোন ডেভেলপারের কাছে কত টাকা নিয়েছে। আমার কাছে সব হিসাব আছে। অনেকে লাফালাফি করছেন। আমরা কিচ্ছু বলছি না।  পুরসভা ভোটে এদের একজন কাউন্সিলারও মানুষের ভোটে জিতে আসেনি। সমস্ত কাউন্সিলার রিগিং ও  ছাপ্পা ভোটে জিতেছিল। যদি আপনাদের এত কাউন্সিলার হওয়ার শখ থাকে, তাহলে পদত্যাগ করে আবার নির্বাচনে আসুন। কামারহাটির মানুষ আপনাদেরকে ঠিক শিক্ষা দিয়ে দেবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)