• ১৮ তলা মার্কেটে নোটিস, আতঙ্কে ডিএলএফ-১ এলাকার ব্যবসায়ীরা
    বর্তমান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বছরের পর বছর ধরে তাঁরাও ব্যবসা করছেন! ফুটপাতের উপরেই তাঁদের অস্থায়ী দোকান। কাবাব-তন্দুরি, চাইনিজ থেকে ভাতের হোটেল। স্টেশনারি, ফলসহ আরও কত কী! কিন্তু ১৮তলা মার্কেটে উচ্ছেদ নোটিস জারি হওয়ার পর থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন নিউটাউনের ডিএলএফ-১ এলাকার শতাধিক দোকানদার। অতীতে তাঁদের অনেকেই এনকেডিএ মার্কেটে গিয়েছেন। কিন্তু সবাই সেখানে দোকান পাননি। ফলে তাঁরা ফুটপাতেই জীবিকা নির্বাহ করতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের একটাই দাবি, সরকার জোর করে যেন উচ্ছেদ না করে। আগে সবার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক। তা না হলে এত দোকানদার যাবে কোথায়? তাঁদের সঙ্গে যুক্ত বহু কর্মচারীর পরিবারও উদ্বেগে রয়েছে।

    নিউটাউনের ১৮তলা মার্কেটে প্রায় ৪০০ দোকানদার রয়েছেন। ওই এলাকাটি নিউটাউনের পুরানো এলাকা। এতদিন তাঁরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করছিলেন। হঠাৎ তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কারণ, এনকেডিএর পক্ষ থেকে ২৫ জুন একাধিক দোকানে নোটিস সাঁটানো হয়েছে। সবাইকে সাতদিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। দোকানদারদের নিজে থেকেই উঠে যেতে বলা হয়েছিল। অন্যথায় প্রশাসনকে যদি দোকান ভাঙতে হয়, তাহলে তার খরচ দিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা কোথায় যাবেন, কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। তবে সূত্রের খবর, ১৮ তলার উচ্ছেদ আপাতত স্থগিত হয়েছে। ফলে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন দোকানদাররা। তাঁরাও পুনর্বাসন চাইছেন।

    নিউটাউনের ডিএলএফ-১ এলাকায় ফুটপাতের ধারে শতাধিক দোকান রয়েছে। সেখানে অফিসের অসংখ্য মানুষ খাওয়া-দাওয়া করেন। তাঁরা বহু বছর ধরে ব্যবসা করছেন সেখানে। তবে ১৮ তলা মার্কেটে নোটিস পড়ার পর তাঁরাও উদ্বেগে পড়েছেন। তবে দোকানদাররা অনেকে আগাম সতর্কতা নিয়েছেন। আগে রাস্তার উপর জলের ড্রাম, অন্যান্য জিনিসপত্র রাখা থাকলেও এখন তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাস্তা পরিষ্কার । সঞ্জয় যাদব নামে এক দোকানদার বলেন, ‘আমার দোকান ভাঙলে আমি তো লোকসানে পড়বই, সেই সঙ্গে আমার ১৬ জন কর্মচারী বিপদে পড়বেন। অর্থাৎ, ১৭টি পরিবার পথে বসবে। এনকেডিএ মার্কেটে যখন দোকান দেওয়া হয়েছিল, তখন আমরা পাইনি। তাই ফুটপাতেই আছি। আমরা এখনও নোটিস পাইনি। তবে, নোটিস পেলেও আমরা সবাই চাই, সরকার আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক।’
  • Link to this news (বর্তমান)