ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা জুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতার জন্ম জয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে বিশেষ বার্তা পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি লিখেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপই ছিল তাঁর প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রদ্ধার্ঘ’। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং ড. মুখোপাধ্যায়ের আজীবনের আদর্শ বাস্তব রূপ পেয়েছে।
সোমবার এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশিত পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছেন, ‘ভারতের অবিভক্ত রাখাই ছিল তাঁর মূলনীতি। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর সমগ্র জীবন ভারতের ঐক্য, অগ্রগতি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর সাহস, নৈতিকতা, দেশপ্রেম এবং জনসেবার আদর্শ আজও কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।’ এই সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর স্মরণ করিয়ে দেন যে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার বিষয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরোধিতা শেষ পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, অনুচ্ছেদ ৩৭০ অপসারণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ছিল ড. মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জম্মু-কাশ্মীর দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে এবং সেখানে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের পথ সুগম হয়েছে। মোদী লিখেছেন, ‘ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন কোনও ব্যক্তির শেষ আত্মত্যাগ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্মৃতির অঙ্গনে স্থান করে নেয়। ডঃ মুখোপাধ্যায়ের শেষ যাত্রা তেমনই একটি মুহূর্ত। বহু বছর পর, ২০১৯ সালে ৩৭০ এবং ৩৫(ক) ধারা বাতিল করাই ছিল তাঁর প্রতি সবচেয়ে উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি।’
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত স্লোগান ছিল, ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই প্রধান, দুই নিশান চলবে না।’ ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে প্রবেশের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আটক অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তী কালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ এবং পরে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারকে তাদের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ কার্যত বিলোপ করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে। একই সঙ্গে রাজ্যটিকে পুনর্গঠন করে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হলেও বিজেপি বরাবরই এটিকে জাতীয় সংহতি জোরদারের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে এসেছে।