প্রবল বর্ষণে বেহাল মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলা। মুম্বইয়ের মতো বিপর্যস্ত পুনে এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলি। প্রবল বৃষ্টির কারণে সোমবার সকালে ভয়াবহ ধস নামে সেখানে। পুনের মাভাল তালুকার পাটান গ্রামে পাহাড় থেকে আচমকা হুড়মুড়িয়ে নামে ধস। বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা গড়িয়ে আছড়ে পড়ে একাধিক বাড়ির ওপরে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, লোহাগড় দুর্গের কাছে পাটন গ্রামে খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুনের ডিস্ট্রিক্ট ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার (DDMO) এবং মাভালের স্থানীয় প্রশাসনের অফিসার ও কর্মীরা। তাঁদের উপস্থিতিতেই প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (NDRF) পঞ্চম ব্যাটালিয়নের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে। ধস নামার খবর আসার পরে সোমবার সকাল ৫:৫০ মিনিটে ৩০ সদস্যের এনডিআরএফ দল বিপর্যয় মোকাবিলার সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে কত জন চাপা পড়ে আছেন, তা এখনও অজানা
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, NDRF-এর ওই দলে একজন অফিসার, দুই জন সিনিয়র অফিসার এবং ২৭ জন জওয়ান রয়েছেন। ইনস্পেক্টর রবিন্দরের নেতৃত্বে এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডান্ট চন্দ্রকেতু শর্মার তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ওই পরিবারের সদস্যদের দ্রুত বাইরে বের করে আনার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। টানা বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকারী দলকেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, এ দিন সকালে পুনে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়েতে ধস নামায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই রাস্তা। জানা গিয়েছে, পুনে-মুম্বই এক্সপ্রেসওয়ের একটি কংক্রিটের স্তম্ভ ভেঙে পড়েছে প্রবল বৃষ্টিতে। পাশাপাশি বিকল্প রাস্তাগুলিও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এক্সপ্রেসওয়ে এবং পুরোনো মুম্বই-পুনে সড়ক দুই দিক থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, কানেক্টিং লিঙ্ক রোডের টানেল-২-এর কাছে ধস নামায় সোমবার ভোর ৪টে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত যান চলাচল। বাস, ট্রাক ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্য রাস্তায়। মহারাষ্ট্র জুড়ে বৃষ্টির জেরে একাধিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।