আজকাল ওয়েবডেস্ক: মন্দিরকেই আড্ডাখানায় পরিণত করা হয়েছিল! ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার কালী মন্দিরকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে রবিবার মন্দির ট্রাস্টের সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক এবং নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা মন্দির কমিটির প্রাক্তন সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। পাশাপাশি, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
তাপস ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একবার নির্ধারিত সময়ের পরে, গভীর রাতে মন্দির খুলিয়ে সাংসদ পার্থ ভৌমিকের জন্মদিন পালন করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক চাপে পড়েই মন্দির খুলতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা। তিনি বলেন, 'প্রভাব খাটিয়ে জন্মদিন পালন করেছেন। জোর করে যদি আমাদের এসে বলেন, আমি মন্দির না খুলে কী করব!'
এরপরই তিনি প্রাক্তন সভাপতি অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দাবি করেন, মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পাদক হিসেবে তাঁর কোনও স্বাধীন ভূমিকা ছিল না। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সভাপতিই নিতেন এবং তিনি কার্যত "পুতুল" হয়ে কাজ করতেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাপস ভট্টাচার্য বলেন, মন্দিরের সমস্ত আর্থিক লেনদেন নিয়ম মেনে চেকের মাধ্যমে হয়েছে। প্রতিটি খরচের অডিট রিপোর্ট, হিসাবপত্র এবং সোনার মূল্যায়নের নথি সংরক্ষিত রয়েছে তাঁর কাছে বলেও দাবি করেন তাপস। তাঁর কথায়, "আমি কোনও অনিয়ম করিনি। প্রয়োজন হলে সমস্ত নথি সকলের সামনে তুলে ধরব।"
মন্দিরের প্রণামী বাক্স চুরির ঘটনাও স্বীকার করেন তাপস ভট্টাচার্য। তিনি জানান, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাক্তন ট্রাস্টি সদস্য সুনীল সাউকে কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এছাড়া ভক্তদের দেওয়া সোনা-গয়না গলিয়ে মায়ের অলংকার তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি জানান, সেই সংক্রান্ত সমস্ত নথিও সংরক্ষিত রয়েছে। তাপস ভট্টাচার্য আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, রাস্তায় দেখলে ডিম ছোড়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, পুরনো কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং কিছু ব্যবসায়ী তাঁকে ট্রাস্ট থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই তাপস ভট্টাচার্য ও মন্দির কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে আবেদন জমা পড়েছিল। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তবে তাপস ভট্টাচার্যের তোলা অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ পার্থ ভৌমিক এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বিষয় মন্দির কমিটির সভাপতি প্রাক্তন পুরপ্রধান অশোক চ্যাটার্জি জানান যে অভিযোগ আনছে সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ। যাঁরা মন্দিরে কাজ করতেন তাঁদের ওই প্রণামী বাক্স থেকে পয়সা দেওয়া হতো তাঁদের পারিশ্রমিক হিসাবে। এছাড়া প্রচুর মানুষকে বড়মার মন্দির থেকে অর্থ সাহায্য বা বিভিন্ন রকম সাহায্য করা হতো এখানে কোনও দুর্নীতি কিছু ছিল না। এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে চক্রান্ত করার চেষ্টা চলছে এমনই অভিযোগ আনেন প্রাক্তন প্রধান অশোক চ্যাটার্জী।