তাঁর ছেড়ে আসা আসনে ভোট ঘোষণা, যা বললেন সুস্মিতা দেব
আজকাল | ০৬ জুলাই ২০২৬
রিয়া পাত্র
অসমের সুস্মিতা। সাংসদ হয়েছিলেন বাংলা থেকে। তৃণমূলের পরাজত পরবর্তী পরিস্থিতিতে, রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়েন। গেরুয়া শিবির-যোগ নিয়েও তুমুল আলোচনা হয়। সেসবের মাঝেই সুস্মিতা দেব এবং আরও দু'জনের ছেড়ে যাওয়া আসনে, উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা।
রাজ্যসভার তিন আসনের ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ্যে আসতেই সুস্মিতার প্রতিক্রিয়া জানতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল সুস্মিতা দেবের সঙ্গে। যে দলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ পেয়েছিলেন তিনি, সেই দল কি আর প্রার্থী দেবে? দিলেও পারবে আসন হাসিল করতে? সুস্মিতা কী ভাবছেন, তাঁরই ছেড়ে আসা আসনে ভোট নিয়ে? জানাচ্ছেন, 'এই ফর্মুলাটাই আসলে খুব জটিল।' যে দলের হয়ে তিনি বাংলা থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন, সেই দল অর্থাৎ তৃণমূলের দুই শিবির ভেঙে যাওয়াটাও যে বড় একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেকথা সুস্মিতার গলাতেও। সঙ্গেই তিনি বলেন, 'রাজ্যসভার যে তিন আসনে ভোট, তা বাংলা থেকেই। বাংলায় এখন ভারতীয় জনতা পার্টির অর্থাৎ বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী, ওঁর সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ট বিধায়ক। আমি নিশ্চিত, বিজেপি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে, পাঠাবেন তিনজনকে। বিধায়কদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন নিশ্চিত।'
সুস্মিতার সংযোজন, 'আমি রাজ্যসভায় দু'বার গিয়েছি। আমি বাংলার মানুষের কাছে গ্রেটফুল। অসম থেকে একজনকে এনে বাংলার হয়ে সাংসদ করা। বিধায়কদেরতো ভোট দেয় জনতাই। তাই আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ, এটা আমি সবসময় বলে থাকি।'
শিলচরের প্রাক্তন কংগ্রেস লোকসভা সাংসদ সুস্মিতা দেব ২০১৯ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ২০২১ সালে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সর্বভারতীয় মুখপাত্র হিসেবে দলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি এবং পরবর্তীকালে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন। উত্তর-পূর্বে দলের বিস্তার ও জাতীয় স্তরে দলের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের রক্তক্ষরণের মাঝেই, ১০ জুন সাংসদ পদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২ এপ্রিল ২০৩০ পর্যন্ত। সুস্মিতার আগে এবং পরে, সুখেন্দু শেখর রায় ৮ জুন প্রকাশ চিক বরাইক ১১ জুন পদত্যাগ করেন।
কমিশনের সূচি অনুযায়ী, ৭ জুলাই উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে। ১৪ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে এবং ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন।
২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিধানসভা ভবনে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টা থেকে গণনা শুরু হবে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।