আজকাল ওয়েবডেস্কঃ নদীয়া জেলার কল্যাণী থানার অন্তর্গত সাহেববাগান ডেঙ্গুরপাড়া এলাকায় এক বিজেপি কর্মী খুনের অভিযোগ। হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ শিকদার। তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রেললাইনের ধারে একটি আমবাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি কর্মী নেতৃত্ব ও কল্যাণী বিধানসভার প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক। পৌঁছয় কল্যাণী থানার পুলিশও। দ্রুত মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় কল্যাণী জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে মৃত্যু হল? তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন। তাদের দাবি, বিশ্বজিৎকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে এই স্থানে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির আরও অভিযোগ, বিশ্বজিতের বাবা কল্যাণী মন্ডল ১২৭ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি। সেই কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে পরিবারের সদস্যদের। বিশ্বজিৎকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। এমনকি এর আগে এলাকায় তৃণমূল নেতৃত্বদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি তাঁর দোকানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগও তুলেছে বিজেপি।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি বিজেপির। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন কোনও হাসপাতালে করার দাবিও জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কল্যাণী থানার পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।