বিউ সরকার: সরকার বদল হতেই চেনা ছবি। পুরসভা বা পঞ্চায়েতে বদলের হাওয়া। বিজেপি পার্টির তরফে এই প্রবণতা রুখতে কড়া বার্তা থাকলেও গত কয়েক দিনে একাধিক ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গিয়েছে। যা নজর এড়ায়নি গেরুয়া শিবিরের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। তাই শ্যামপ্রসাদ মুখার্জির জন্মদিনে মুরলীধর সেন লেনের দলীয় দপ্তর থেকে কড়া বার্তা দিলেন শমীক। দল ও রাজ্য সরকার যে পৃথক, তা তুলে ধরে কামারহাটি পুরসভায় চেয়ারম্যান বদল নিয়ে হস্তক্ষেপ করলেন।
সম্প্রতি কামারহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান গোপাল সাহা তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। অচলাবস্থা দূর করতে পুরবোর্ডে বৈঠক হয়। শুরু হয় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের তৎপরতা। গত শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলরদের সর্বসম্মত সমর্থনে নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চ্যাটার্জিকে পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়। নবনিযুক্ত পুরপ্রধান সুশান্ত চ্যাটার্জি আসলে বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জির দাদা।
গুঞ্জন বিজেপি নেতৃত্বের হস্তক্ষেপেই এই বদল ঘটে। বিজেপির প্রদেশ নেতৃত্ব মনে করছে, এই ঘটনায় জনমনে অন্য বার্তা যাচ্ছে।
সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। বিজেপির পুরনো দপ্তর মধ্য কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে শ্যামাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই কামারহাটি পুরবোর্ডে বদল নিয়ে মুখ খোলেন। দলীয় শৃঙ্খলার কথা মনে করিয়ে দেন। বলেন, "যারা মনে করছেন, বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন চারা সংযত হয়ে যান। যারা মনে করছেন বিজেরির পতাকা হাতে নিয়ে কাউন্সিলর হয়ে প্রতিষ্ঠা করে দেবেন কারা ভুল করেছে তারাও সতর্ক হোন। আমি শুনলাম কামারহাটি পুরসভায় নাকি পরিবর্তন হয়েছে, আমার কাছে খবর আসেনি। কেউ না কেউ ওখানকার চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। সংযত হয়ে যান। এখনও পর্যন্ত পার্টি কোনও ব্যববস্থা নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সংযত হয়ে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে গিয়েছেন। যদি কেই মনে করেন বিজেপি সেবাশ্রম, হরিনামের সভা, যে কেউ নিজেকে কলকাতা, বিধাননগর বা কামারহাটির বড় বড় কাউন্সিলর মনে করবেন, পার্টি মেনে নেবে, তা হতে দেওয়া যাবে না।"
জেলা নেতাদের শমীকের নির্দেশ, "জেলা নেতৃত্বকে আজ চারটের মধ্যে কামারহাটি নিয়ে অমিতাভ চক্রবর্তীকে রিপোর্ট দিতে হবে। নেতা, মন্ত্রীর কথা সব চলবে না। পুরসভার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সেই সমস্যা মেটানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, বিজেপির নয়। রাজ্য সরকার ও পার্টি এক নয়।"
উল্লেখ্য, ৩৫ আসনের কামারহাটি পুরসভায় বর্তমানে সমীকরণ কিছুটা বদলেছে। চারজন কাউন্সিলরের মৃত্যু এবং চারজনের পদত্যাগের ফলে আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭-এ। এর মধ্যে তিনজন নির্দল এবং বাকিরা তৃণমূলের টিকিটে জয়ী। গত শুক্রবারের বৈঠকে দুই কাউন্সিলর অনুপস্থিত থাকায় উপস্থিত ছিলেন মোট ২৫ জন সদস্য। তাঁরা সকলেই সুশান্তবাবুকে সমর্থন জানান।