• ‘পরিবার যেভাবে বিচার চেয়েছেন, সেটা তাঁরা পাবেন’, বারুইপুর কাণ্ডে অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ জুলাই ২০২৬
  • বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে একজনের নাম দিবাকর মণ্ডল। আর একজনের নাম প্রভাস সর্দার। তৃতীয়জনের নাম আনন্দ সর্দার। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার। সোমবারই ধৃতদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে ধৃতদের হেপাজতে চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। এই আবহে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বারুইপুরের তিনটি থানা এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করল পুলিশ। সোমবার সকাল থেকে সেখানে থমথমে পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায়। বিএনএসের এই ধারা অনুযায়ী, তিন থানা এলাকায় পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। টহলদারি চলছে। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবার যেভাবে বিচার চেয়েছেন, সেটা তাঁরা পাবেন। বারুইপুরে নাবালিকা খুন ও ধর্ষণ ‘জঘন্যতম ঘটনা’। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে। ওর বাবা যা যা চেয়েছেন সব করবো। আমি খুশি ওঁরা আস্থা রেখেছেন।’

    অন্যদিকে এই ঘটনায় নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে রবিবারই ফোনে কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। আর সোমবার অ্যাকশন মোডে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। শুভেন্দু অধিকারি সরাসরি জানিয়ে দেন, ‘এই ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। ৩ জন আটক হয়েছে। তারা পলাতকদের সঙ্গে কথা বলেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।’ নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার নাবালিকার বাবাকে ভবানীভবনে সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে মঙ্গলবার বারুইপুরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি বলে সূত্রের খবর।

    এছাড়া ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, আনন্দ নামে এক যুবক ওই নাবালিকার গলায় পা দিয়ে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করে। আর প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ধর্ষণ নাকি গণধর্ষণ সে বিষয়ে কেউ মুখ খোলেনি। প্রভাস ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা হলো আনন্দ, প্রবীর, দিবাকর এবং রাজা। এরা সকলেই স্থানীয় যুবক। দিবাকর মণ্ডল, প্রভাস সর্দার এবং আনন্দ সর্দার গ্রেপ্তার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘বারুইপুরে মব লিঞ্চিংয়ের পিছনে সাম্প্রদায়িকতার রং রয়েছে। সিআরপিএফের দুজন জওয়ান আহত হয়েছেন, পুলিশের গাড়ি জ্বালানো হয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন প্রথমটার বিচার দেব, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট। বাকি তিনটে কাণ্ড যারা করেছে, তাদের ভুগতে হবে। এমন ভোগাবো বুঝতে পারবে। মূল অপরাধীদের যেমন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, তেমনই পরিস্থিতি উত্তপ্তকারী ‘ভোটহারা অতৃপ্ত আত্মাদের’ এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা ভাবতেও পারছে না।’
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)