বারুইপুর ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে এখন তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। আর তার মধ্যে ঘটে গেল আরও একটি ঘটনা। যা নিয়ে এখন আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সোমবার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। এই ঘটনায় ওই ছাত্রী এখন আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন।
এদিকে টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময় একটি টোটোতে থাকা সাতজন যুবক ওই নাবালিকা এবং তার দিদির পিছু নেয়। তারপর ছাত্রীকে ফাঁকা রাস্তায় পেয়ে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। নাবালিকার দিদি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও কোনও লাভ হয়নি। এই ঘটনার পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ধৃতদের মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আর পরিবার সূত্রে খবর, রবিবার টিউশন থেকে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী তার দিদির সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। তখনই পথে একটি টোটোতে থাকা সাতজন যুবক তাদের পিছু নেয়। ওই যুবকদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করে পথেই বলে অভিযোগ। ছাত্রীর দিদি প্রতিবাদ করলে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে দুই বোন দ্রুত বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সবকিছু জানান।
অন্যদিকে এই কথা শোনার পর পরিবারের সদস্যরা এলাকায় খোঁজ নিতে শুরু করেন। আর অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা টোটোকে আটক করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা কয়েকজন যুবককে মারধর করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই ক্যানিং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ তিনজন যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তখন আরও চারজন পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা আরও একজন অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তারপর রাতভর তল্লাশি চালিয়ে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
তাছাড়া নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে যৌন নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, নাবালিকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করেছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃতদের জেরা করে এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।