সাসপেনশনের মেয়াদ বাড়ল তিন আইপিএসের, আরজি কর মামলায় শাস্তি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ জুলাই ২০২৬
আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় তিন আইপিএস অফিসার অভিষেক গুপ্তা, বিনীত গোয়েল ও ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও বাড়ল। আরও চার মাস বাড়ানো হলো সাসপেনশনের মেয়াদ। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে মিস হ্যান্ডলিং এবং গাফিলতির জেরে গত ১৫ মে সাসপেন্ড করা হয়েছিল এই তিন আইপিএসকে। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার সময় তাঁদের ভূমিকা কী ছিল সেটা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। তারপর আরজি কর হাসপাতালের ফাইল নতুন করে খোলা হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়েল। ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্তা (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ছিলেন (ডিসি সেন্ট্রাল)। বিজেপি সরকার এই তিন আইপিএস অফিসারকেই সাসপেন্ড করে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে ঘোষণা করেছিলেন এই তিন আইপিএসের সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে আরজি কর হাসপাতাল পর্বে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়। সুতরাং নতুন করে তদন্তের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনজন। তার মধ্যেই তাঁদের সাসপেনশনের মেয়াদও বৃদ্ধি করা হলো।
অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এই ঘটনার ফের তদন্ত করবে। আর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই গত ১৫ মে কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। সেদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘বিনীতের সঙ্গে আরও দুই আইপিএস অফিসার অভিষেক গুপ্তা এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও সাসপেন্ড করা হলো। তাঁদের তিনজনের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্ত হবে।’
এছাড়া আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সিবিআই। বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তাকে তাঁরা ডেকে পাঠিয়েছিলেন। জুন মাসেই তাঁরা সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেন। তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আরজি কর ঘটনা নিয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিনীত গোয়েলকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে এসটিএফের এডিজি পদে বদলি করা হয়েছিল। একই সময়ে অভিষেক গুপ্তা ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে। তাঁকেও ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকী ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় তখন ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল)। আরজি কর কাণ্ডের সময়ে বারবার খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি।