দশকে দশকে সরকার বদল হয়, বর্ষায় মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্রের বিপর্যয়ও অব্যাহত থাকে। সোমবার একটানা বৃষ্টির পর পুণে জেলার একটি গ্রামে ভেঙে পড়ে পাহাড়ের একাংশ। ভোরবেলা ভয়ংকর ধসে মাভাল তহশিলের পাতান গ্রামের একাধিক বাড়ি মাটি-পাথরে নিচে চাপা পড়ে। নিখোঁজ অন্তত ৩৫ জন। এখনও পর্যন্ত ৩টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এনডিআরএফ। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে, জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,পাহাড়ের একাংশ ভেঙে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে পাঁচ বা তার বেশি বাড়ি। রাতভর বৃষ্টির পর ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। মাটি-পাথরের নিচে চাপা পড়ে ৩০-৩৫ জন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তিরিশ সদস্যের একটি দল। এখনও পর্যন্ত তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকিদের বাঁচাতে বর্ষার মধ্যেও লাগাতার উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনডিআরএফ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন ৬০ বছরের নন্দু তিকোনে, ৩০ বছরের মৌলি তিকোনে এবং ৫৫ বছরের অনিতা তিকোনে।
এদিকে বৃষ্টি ও ধসের জেরে মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে ও মুম্বই-পুণে হাইওয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমান অবস্থায় প্রশাসনের তরফে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আপাতত খুব প্রয়োজন ছাড়া মুম্বই থেকে বা পুণে থেকে মুম্বই না আসাই ভালো। পাশাপাশি সরকারি ট্র্যাফিক আপডেটের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রবল বৃষ্টির জেরে নাজেহাল অবস্থা মুম্বইয়ের। জায়গায় জায়গায় ধস, বাড়ি ভাঙা ও গাছ পড়ে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। জলমগ্ন বহু এলাকা। শুধু তাই নয়, উদ্বোধনের মাত্র ২ মাসের মধ্যেই ধসের কারণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ের ২ নম্বর টানেল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই রুটের যান চলাচল। ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় মহারাষ্ট্রের একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।