বারুইপুর ধর্ষণ-খুন কাণ্ড: রকেট গতিতে অ্যাকশন সিটের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার
প্রতিদিন | ০৬ জুলাই ২০২৬
বদলের বাংলায় ধর্ষণ-খুনের মতো ঘটনার কিনারা করতে একেবারে রকেট গতিতে অ্যাকশন চলছে পুলিশের। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় (Baruipur Incident) মূল অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জালে আনল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আনন্দ সর্দার নামে একজনকে। সে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। সেইমতো তল্লাশি চালিয়ে আনন্দকে পাকড়াও করতে এসটিএফের সাহায্য নেওয়া হয়। এনিয়ে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩। এছাড়া আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
বারুইপুরে অশান্তির সূত্রপাত রবিবার সকাল থেকে। পুকুর থেকে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ধপধপি এলাকা। নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহ রাস্তায় রেখে অববোধ করেন, চলে রেল অবরোধও। ঘটনার খবর কানে পৌঁছতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা বলেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে বিকেলের মধ্যেই ৬ সদস্যের সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়। সিটের নেতৃত্বে বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত এসপি পিনাকী দত্ত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার থেকে আনন্দ সর্দার নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাকেই মূল অভিযুক্ত বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। তাকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারে সিট। আনন্দকে জেরা করে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা জানতে চাওয়া হবে। দ্রুত ঘটনার কিনারা করতে মরিয়া তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, নাবালিকার মৃতদেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, যৌন নির্যাতনের পর ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে।
সোমবার নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বারুইপুরের ধপধপিতে গিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের তরফে চার নেতানেত্রী। দোলা সেনের নেতৃত্বে জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, বারুইপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যান। সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়েছে সিপিএমের এক প্রতিনিধিদলও। সকলেই নির্যাতিতার অসহায় পরিবারের তরফে দ্রুত সুবিচারের দাবি তুলেছেন।