“দিদির সঙ্গে আছি, দিদিকেই ভালোবাসি।” বিতর্ক উসকে এমনই মন্তব্য করলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। পালাবদলের পর বঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে মুষলপর্ব দেখে দিয়েছিল। বিধায়কদের পাশাপাশি তৃণমূলের লোকসভার সাংসদরাও বিদ্রোহী হয়েছিলেন। ২০ জন লোকসভার সাংসদ তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) দলে যোগ দিয়েছেন তাঁরা! তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই-তে গিয়েছেন শতাব্দীও। তৃণমূল সম্পর্কে তিনি কোনও কথা বলেননি। তবে তিনি দিদির সঙ্গে আছেন, সেই কথা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বারুইপুরের ঘটনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন সাংসদ।
নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘দলবদলু’দের বিরুদ্ধে দিন কয়েক আগে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন। সেই আবহেই শতাব্দী এদিন বলেন, “দিদির সঙ্গে আছি, দিদিকেই ভালোবাসি।” তিনি যে এনসিপিআই-তে রয়েছেন, সেই কথাও জানাতে ভোলেননি বীরভূমের সাংসদ। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা দুই দলে ভাগ হয়ে গিয়েছে আগেই। ঋতব্রত শিবিররা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন। দলীয় প্রতীক দাবি করে নির্বাচন কমিশনে দরবার করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ‘কালীঘাট তৃণমূল’ও দলের প্রতীকের দাবি জানিয়েছে। সাংসদের সঙ্গে কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের যোগাযোগ রয়েছে? সেই জল্পনা চলছেই। এদিন শতাব্দী বলেন, “বিধায়কদের সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। বিধায়কদের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।” ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সাংসদ।
বারুইপুরের ‘ধর্ষণের’ ঘটনা নিয়ে চর্চা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনার তদন্ত ও শাস্তির কথা জানিয়েছেন। পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত-সহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করেছে। আজ, সোমবার বারুইপুরের ঘটনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন সাংসদ। তিনি বলেন, “বারুইপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, আইন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত এবং তারা শাস্তি পাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।” এবার বিধানসভা নির্বাচনের পর আর বীরভূমে নিজের সংসদীয় এলাকায় যাননি শতাব্দী। আজ, সোমবার সিউড়িতে জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে গিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। রামপুরহাটে তাঁর ফ্ল্যাটেও গিয়েছিলেন তিনি।