এক ফোনেই মিলবে প্রশাসনের সাহায্য! এবার পর্যটকদের হয়রানি রুখতে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন
News18 বাংলা | ০৬ জুলাই ২০২৬
উত্তরবঙ্গ, ডুয়ার্স, পাহাড় কিংবা প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমে বেড়াতে এসে আর সমস্যায় পড়লেও অসহায় হয়ে থাকতে হবে না পর্যটকদের। যে কোনও ধরনের হয়রানি, প্রতারণা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনের সাহায্য পৌঁছে দিতে চালু হল ২৪ ঘণ্টার বিশেষ পর্যটক হেল্পলাইন নম্বর ৯৮০০২৪২৪২৬। পর্যটকদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকের, ট্রাফিক ডিসিপি কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। প্রশাসনের দাবি, উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আস্থা বাড়াতেই এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
শুধু হেল্পলাইন নয়, পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে সমস্ত হোটেলকে কেন্দ্রীয় NIDHI পোর্টালে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি ট্যুর অপারেটর ও পর্যটকবাহী গাড়ির চালকদেরও প্রশাসনের নথিভুক্ত করা হবে। অনুমোদিত পরিষেবা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হবে, যাতে কোনও প্রতারণার ঘটনা ঘটলে প্রশাসন দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।
পর্যটন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দেড় থেকে দু’মাসের মধ্যেই একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে। পরবর্তীতে এই হেল্পলাইনকে রাজ্য স্তরের কেন্দ্রীয় পর্যটক সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, ফলে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে থাকা পর্যটক আরও দ্রুত পরিষেবা পাবেন।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আমাদের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের নেতৃত্বে আমরা মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছি। উত্তরবঙ্গের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে কোনও পর্যটক যাতে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি না ফেরেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপও চালু হবে এবং সেটিকে রাজ্যের মূল হেল্পলাইন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।”
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পর্যটকদের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনই উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের প্রতি মানুষের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে। প্রশাসনের আশা, নতুন এই ব্যবস্থা পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত ভ্রমণের পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।