গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আরজি কর কাণ্ডে বিচার ও মহিলাদের নিরাপত্তার দাবিতে ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে রাজ্যজুড়ে স্বতঃস্ফূর্ত ‘রাত দখল’ (Reclaim the Night) কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন রিমঝিম সিনহা। বারুইপুরের ঘটনার পরেও প্রতিবাদ করেছেন তিনি। সোমবার দুপুরে বারুইপুর থানায় হাজির হন রিমঝিম।
বারুইপুরের ঘটনায় নিয়ে রিমঝিমের বক্তব্য, ‘আমাদের একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। যেমন– এত বড় ভয়ঙ্কর ঘটনায় কেন সার্চ পার্টি ফর্ম করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। পুলিশ রাস্তায় নেমে সার্চ অপারেশন করেনি। এমন হলে গণপিটুনির মতো ঘটনাকে আটকানো সম্ভব নয়।’ উল্লেখ্য, বারুইপুরের ঘটনায় রবিবারই স্থানীয় এক অভিযুক্ত যুবক গণপিটুনির শিকার হয়। ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে ওই যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও থানা থেকে পরে দু’জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কোনও স্থানীয় নেতার কথায় সেটা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। এই ঘটনাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিন্দায় সরব হয়েছেন রিমঝিম। তাঁর বক্তব্য, ‘কী করে থানা একজন রাজনৈতিক নেতার কথায় অভিযুক্তদের ছেড়ে দিতে পারে কোনও তদন্ত ছাড়াই। এটা আমাদের কাছে বড় প্রশ্ন।’
সোমবার বারুইপুর থানায় চিঠি দেওয়া হয় সারাভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির তরফে। চিঠিতে অভিযোগ, ঘটনার পর মেয়েটির পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানোর ৬ ঘণ্টা পরেও পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। ‘গোটা রাজ্য জুড়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে উঠছে। প্রশাসনকে এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি’, বলা হয়েছে চিঠিতে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও SIT। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুরে এখনও উত্তেজনা রয়েছে।