চলতি মরশুমের বর্ষা সক্রিয় রূপ ধারণ করেছে বর্তমানে। যার জেরে দেশের একাধিক রাজ্যে শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। ISRO উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, ভারতের পশ্চিম, মধ্য এবং পূর্ব ভাগে বিশাল মেঘপুঞ্জ তৈরি হয়েছে। যার জেরে মহারাষ্ট্র, ওডিশা এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে বৃষ্টি চলছে। যার জেরে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
টানা বৃষ্টির জেরে মুম্বইয়ের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। মুম্বইয়ের সমস্ত সরকারি, বেসরকারি স্কুল ও কলেজে ছুটি ঘোষণা করেছে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)। সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলিকে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে। গত কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে বহু জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছ। সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত লোকাল ট্রেন এবং বিমান পরিষেবাও।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যার জেরে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বাড়ছে বৃষ্টির দাপট। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
নিম্নচাপের জেরে ওডিশার জনজীবনও কার্যত বিপর্যস্ত। ওডিশার সমস্ত জেলাতেই ভারী বৃষ্টির রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি মরশুমে ওডিশায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮২ শতাংশ বেশি রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে রাজ্যের জরুরি অপারেশন কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় নিচু এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে সে রাজ্যের জেলা প্রশাসন।
জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ার ও ডোডায় সোমবার হড়পা বানের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিশতওয়ারে চনাব নদীর উপর নির্মীয়মাণ ৫৪০ মেগাওয়াটের ‘কুয়ার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ধস নেমেছে। যার জেরে বেশ কিছু ডাম্পার ও জেসিবি মেশিন মাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে। তবে ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই। অন্য দিকে, ডোডার প্রেম নগরে হড়পা বানের জেরে ডোডা-কিশতওয়ার ২৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে।
গুজরাটের সোমনাথ উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার জেরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে রূপেন নদীর বাঁধ ভেঙে গাংদা গ্রামের একাধিক বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৫০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। IMD জানিয়েছে, সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ এলাকাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত বর্ষা ঝড়ের দাপটে। ৮ জুলাই পর্যন্ত গুজরাটের একাধিক জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।