• বাবুই ঘাসের হস্তশিল্পে নতুন দিশা, শিল্পীদের দক্ষতা বাড়াতে ঝাড়গ্রামে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি দল
    প্রতিদিন | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • সাবাই (স্থানীয়ভাবে বাবুই নামে পরিচিত) ঘাসের হস্তশিল্পের উন্নয়ন, কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চলা ‘রুরাল ক্র্যাফ্ট অ্যান্ড কালচারাল হাব-২’ (আরসিসিএইচ-২) প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে ঝাড়গ্রাম জেলার দুটি হস্তশিল্প কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন ইউনেস্কো, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দপ্তর, জেলা শিল্পকেন্দ্র, খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদ এবং প্রকল্পের কার্যকরী সহযোগী সংস্থা ‘কদম’-এর প্রতিনিধিরা। গতকাল, রবিবার এবং সোমবার দুই হস্তশিল্প কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তাঁরা।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দপ্তরের সহযোগিতায় ইউনেস্কোর উদ্যোগে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে প্রকল্পটি চালু হয়েছে। এর আওতায় ঝাড়গ্রাম জেলার কারিগরদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী হাতব্যাগ, ঝুড়ি, ট্রে, ল্যাম্পশেড, ডাস্টবিন, ফুলের টবের কভার-সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অ্যাজো-মুক্ত রং ব্যবহার, গুণমান নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি, অনলাইন বিপণন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। দিল্লি, কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে প্রদর্শনী ও বিপণনের সুযোগও পাচ্ছেন কারিগরেরা।

    রবিবার নয়াগ্রাম ব্লকের চাঁদাবিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাইশোল এবং সোমবার ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়বাড়ি হস্তশিল্প কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিরা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইউনেস্কোর মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার চিরঞ্জিত গঙ্গোপাধ্যায়, ইউনেস্কোর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সমন্বয়কারী আশুতোষ সামল, ঝাড়গ্রাম জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার প্রসূন ঘোষ, খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পর্ষদের জেলা আধিকারিক অশোক দাস এবং ‘কদম’-এর কর্মসূচি ও কৌশল বিভাগের প্রধান লুবনা মেলজার-সহ অন্যান্য আধিকারিক। দুই দিনে প্রায় ১১৫ জন কারিগরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা।

    কারিগররা জানান, প্রশিক্ষণের ফলে নতুন নকশার পণ্য তৈরি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, গুণমান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং ও অনলাইন বিপণনের ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা বেড়েছে। পরিবেশবান্ধব অ্যাজো-মুক্ত রং ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমেছে এবং পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে। কুকড়াশোল গ্রামের কারিগর চন্দনা দাস বলেন, ‘‘ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা আমাদের কাজ ও সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনেছেন। এতে আমরা আরও উৎসাহ পেয়েছি।’’ বড়বাড়ি গ্রামের কারিগর মঞ্জু মাহাতো গ্রামটিকে হস্তশিল্পভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থায়ী প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র তৈরির দাবি জানান। ‘কদমে’র কর্মসূচি ও কৌশল বিভাগের প্রধান লুবনা মেলজার বলেন, ‘‘প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কারিগরদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন পণ্য তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভর করে তোলাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।’’ পরিদর্শনের শেষে জেলা শিল্পকেন্দ্রে বৈঠকে চাঁদাবিলায় একটি কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার গড়ে তোলা এবং বাবুই ঘাসের হস্তশিল্পকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)