মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ফের হামলা। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অতর্কিত হামলায় মৃত্যু অসম রাইফেলস-এর দুই জওয়ানের। সোমবার ওই হামলা হয়েছে মণিপুরে উরখুল জেলায়।
মণিপুরের পুলিশ এবং অসম রাইফেলস (Assam Rifles) সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে ২০২ জাতীয় সড়কে। উরখুল শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ওই হামলা হয়। ওই ঘটনায় নিহত হয়েছেন অসম রাইফেলস-এর ওয়ারেন্ট অফিসার বলবন্ত সিং এবং রাইফেলম্যান সি এম সিং।
জানা গিয়েছে, উখরুল জেলায় নুংশাং কং(Nungshang Kong)-এর লুংশাং নদী (Lungshang River) কাছে ওই হামলা হয়। এলাকায় টহল দিয়ে জওয়ানরা ফিরছিলেন ৪০ অসম রাইফেলস-এর শাংশাক ব্যাটালিয়ন (Shangshak Battalion) সদর দপ্তরে।সেই সময়েই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অতর্কিত হামলা হয়। ওই হামলার পরেই নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উরখুল এলাকা। মাস কয়েক আগেই উরখুল এলাকায় কুকি এবং নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই বিবাদের সময়ে কুকি সম্প্রদায়ের অন্তত ১৪ জনকে হত্যা করা হয়। সেই সঙ্গে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেকগুলি বাড়িও। এর পরেই মে মাসে কাংপোকপি (Kangpokpi) জেলার লেইলন ভাইফেই (Leilon Vaiphei) গ্রাম থেকে অপহরণ করা হয়েছিল ছ’জন নাগা নাগরিককে। গত ১০ জুন, কুকি-জ়ো অধ্যুষিত একটি গ্রামের কাছ থেকে উদ্ধার হয় তাঁদের দেহ। মে মাসেই উরখুলে ২০২ নম্বর জাতীয় সড়কে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয় পশ্চিমবঙ্গের এক ট্রাক চালকের। ভারত এবং মায়ানমার সীমান্তে (Indo-Myanmar border) থাকা ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতেই সেখানে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সোমবার ওই হামলা হয়। উরখুলের (Ukhrul) এই হামলার পরেই এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। সেই সময়ে গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের নিরাপত্তারক্ষীদের গুলির লড়াই হয় বলেও দাবি তাঁদের।
ওই হামলার ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম (Govindas Konthoujam)। এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করতেই এই ধরনের হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনার পরে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।