• ভিন জাতের সহকর্মীকে বিয়েতে আপত্তি, হাসপাতালেই ‘আত্মঘাতী’ চিকিৎসক, উদ্ধার সুইসাইড নোট
    এই সময় | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • অরুণা আসফ আলি হাসপাতালে ডিউটি রুম থেকে উদ্ধার হলো এক চিকিৎসকের দেহ। রবিবারের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লিতে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম ডা. সিমরপ্রীত সিং আনন্দ (৩৫)। তিনি হাসপাতালের অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি তিন পাতার সুইসাইড নোট ও একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই অনুমান। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিমরপ্রীত আনন্দের বাড়ি পাঞ্জাবের লুধিয়ানায়। অরুণা আসফ আলি হাসপাতালের অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, ডায়েরিতে ডিপার্টমেন্টেরই এক তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে প্রেমের কথা লিখেছেন আনন্দ। দু’জনে বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, তরুণী ভিন্ন জাতের হওয়ায় তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেননি আনন্দের বাড়ির লোক। তরুণীর পরিবারও বিয়েতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। এই নিয়ে মানাসিক চাপে ছিলেন আনন্দ।

    শনিবার রাত ৮ থেকে রবিবার ভোর পাঁচটা পর্যন্ত নাইট ডিউটি ছিল আনন্দর। ভোরের দিকে ওয়ার্ডে না দেখে তাঁকে খুঁজতে শুরু করেন সহকর্মীরা। তখনই দেখা যায় ১০৯ নম্বর রুম ভিতর থেকে বন্ধ। সন্দেহ হয় তাঁদের। সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন অচৈতন্য অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন তরুণ চিকিৎসক। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনন্দকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ১০৯ নম্বর রুম থেকে একটি তিন পাতার সুইসাইড নোট, একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি, কয়েকটি সিরিঞ্জ, খালি ওষুধের শিশি এবং একটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত চিকিৎসকের বাঁ হাতে একটি ক্যানুলা (পাতলা, নরম প্লাস্টিকের নল। সাধারণত রোগীর হাতের শিরায় প্রবেশ করানো হয়। যাতে সহজে ওষুধ, স্যালাইন, ইনজেকশন বা অন্য তরল দেওয়া যায়) ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, আগের রাতে আনন্দর অনুরোধে এক টেকনিশিয়ান ওই ক্যানুলা বসিয়ে দিয়েছিলেন।

    ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। খবর পাঠানো হয়েছে তাঁর পরিবারকেও। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার ফল হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সুইসাইড নোট এবং ডায়রি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের কর্মী এবং মৃত চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

  • Link to this news (এই সময়)