অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান তছরূপের অভিযোগ উঠতেই পদত্যাগ করেছিলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র। এর মধ্যেই সোমবারের বৈঠকে কৃষ্ণ মোহনকে ট্রাস্টের অন্তর্বর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেছে নিল শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। দান-কেলেঙ্কারি সামলাতে পারবেন তিনি?
এ দিন বৈঠকে ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দদেব গিরির পাশেই বসেছিলেন কৃষ্ণ মোহন। গোবিন্দদেব তাঁর নাম ঘোষণা করে জানান, নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত কৃষ্ণ মোহনই দায়িত্ব সামলাবেন। অন্তর্বর্তী সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণ মোহন বলেন, ‘দান-কেলেঙ্কারির ঘটনায় ভক্তরা আস্থা হারিয়েছেন। সেই আস্থা পুনরুদ্ধারে ট্রাস্ট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।’
উত্তরপ্রদেশের হরদোইয়ে বাড়ি কৃষ্ণ মোহনের। বয়স ৭৩ বছর। দীর্ঘ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কৃষ্ণ মোহন নিজেও ট্রাস্টের সদস্য। ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে ট্রাস্টি কামেশ্বর চৌপালের মৃত্যু হয়। তাঁর জায়গায় ট্রাস্টে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
কৃষ্ণ মোহনের ছেলেবেলা কেটেছে হরদোইতেই। পরে লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন তিনি। প্রথম জীবনে অ্যটমিক এনার্জি ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছেন। তার পরে মহারাষ্ট্র ক্যাডারের আধিকারিক হিসেবে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিসে যোগ দেন। এখন হরদোইতেই অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। তবে ২০২৫ থেকে তিনি ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত।
রামমন্দিরের কোটি কোটি টাকা দান চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর নৈতিক দায় স্বীকার করে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রাই। এর কিছুদিন পরে পুলিশ তাঁর গাড়িচালক রামাশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু-সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে। চম্পত রাইয়ের পাশাপাশি ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও পদত্যাগ করেছেন। অনুদান বিতর্কে নামে উঠে এলেও, এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি। সিট গঠন করে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।