‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। ‘সেবাশ্রয়’–এর অনিয়ম নিয়ে আরও বিপাকে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেও এই নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সোমবার এই নিয়ে আরও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বারও এই অভিযোগ দায়ের করেছেন ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে ওষুধ ক্রয়ের তহবিল ও সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই নিয়ে সোমবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
আগেই ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ডায়মন্ড হারবার ও বিষ্ণুপুর থানায় FIR হয়েছে। অভিজিৎ-ই ওই অভিযোগগুলি দায়ের করেন। তাতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে মূল অভিযুক্ত করা হয়েছে। FIR-এ অভিষেক এ ছাড়াও নাম আছে তাঁর PA সুমিত রায়, ধৃত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান-সহ একাধিক জনের। এ ছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৎকালীন জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা এবং অরবিন্দ কুমার মিনা, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার CMOH এবং সমস্ত ব্লক মেডিক্যাল অফিসার (BMOH) বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়ে। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আবেদনও জানানো হয়েছে তাতে।
‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেখানে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বেআইনি ভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। বহু ভুয়ো চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ববি। সেবাশ্রয়ে চিকিৎসা পরিষেবার নামে একাধিক আইন ও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেও দাবি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। মডেল স্বাস্থ্যশিবিরের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১০ জুন পারুলিয়ার হিঞ্চেবেরিয়া গ্রামে মাটির তলা থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা। এই নিয়ে রাসায়নিক কার্যকারিতা এবং লেবেলের সত্যতা যাচাই করে দেখার দাবি করাও হয়েছে। ওই ঘটনার কথা উল্লেখ পরেই তদন্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের ওই সেবাশ্রয়ের কোনও সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না প্রশাসনের দাবি। ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। নবান্ন থেকেও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ডায়মন্ড হারবারের ওই সেবাশ্রয়ের কোনও সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না প্রশাসনের দাবি,। ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। নবান্ন থেকেও বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
তবে এই নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি অভিষেক। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, অভিষেককে কালিমালিপ্ত করার জন্যও মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করানো হচ্ছে।