• বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল ধসে মৃত্যু ৮ মাসের শিশুর, পাত্রসায়রে জখম তিন
    এই সময় | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, পুঞ্চা ও পাত্রসায়র: আট মাসের মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়িতে এসেছিলেন। স্নান করানোর জন্য তাকে জল ভর্তি গামলার পাশে রেখে তেল আর সাবান আনতে গিয়েছিলেন মা। হঠাৎ জোরালো শব্দ পেয়ে ছুটে এসে দেখেন, পাশের বাড়ির মাটির দেওয়াল ধসে গিয়েছে। নীচে চাপা পড়েছে ছোট্ট প্রাণ। পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে। সোমবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়া জেলার পুঞ্চা থানা এলাকার জামবাদের জাগদাকোচা গ্রামে।

    এ দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছিল। শিশুসন্তানকে স্নান করানোর জন্য তার মামার বাড়ির সামনের রাস্তার ধারে শুইয়ে রেখে গিয়েছিলেন মা সোনালি সোরেন। পাশেই ছিল প্রতিবেশীর বাড়ির মাটির দেওয়াল। বৃষ্টিতে আলগা হয়ে আচমকা মাটির দেওয়ালটি সম্পুর্ণ ধসে পড়ে বলে জানালেন গ্রামবাসী। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, শিশুটিকে স্নান করানোর অ্যালুমিনিয়ামের গামলাটি ভেঙে পড়া দেওয়ালের ভারে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। ওই শিশুকন্যার মা শোকে যেন পাথর হয়ে গিয়েছেন। শিশুটির বাবা ওডিশায় শ্রমিকের কাজ করেন। মর্মান্তিক এই খবর দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

    সোনালির পরিবার জানিয়েছে, বাপের বাড়িতে রোজই মেয়েকে ওই জায়গায় স্নান করাতেন তিনি। এ দিন কয়েক মিনিটের জন্য মেয়ের সঙ্গে ছিলেন না। তার মধ্যেই এত বড় সর্বনাশ হয়ে গেল। প্রতিবেশী কার্তিকচন্দ্র মান্ডি বললেন, ‘হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ পেয়ে ছুটে এসে দেখি এই ঘটনা। শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও বাঁচানো যায়নি।’ গ্রামবাসীর কাছ থেকে জানা গেল, জাগদাকোচায় এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। আগের বছরেও মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। এ বার প্রাণ হারাল কোলের শিশু।

    বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়রের নান্দুর গ্রামেও এ দিন বৃষ্টির জেরে একটি কাঁচা বাড়ির মাটির দেওয়াল ধসে পড়েছে। তাতে চাপা পড়ে জখম হয়েছেন একই পরিবারের তিন জন। সবাইকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, নান্দুরে পাশাপাশি দু’টি কাঁচা বাড়িতে থাকেন সমীর সিংহদেব ও সন্তোষ সিংহদেব নামে পেশায় দিনমজুর দুই ভাই।

    সোমবার ভোরে তখন দুই পরিবারই ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ সন্তোষের বাড়ির একটি দেওয়াল ধসে পড়ে সমীরের বাড়ির উপরে। তাতেই চাপা পড়ে যান সমীর, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যান ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। দেন ত্রাণসামগ্রী।

  • Link to this news (এই সময়)