• পুকুরের অদূরে মদ-গাঁজার ঠেকেই কিশোরীকে গণধর্ষণ? বারুইপুরের ঘটনায় উঠে এল আরও একাধিক তথ্য
    এই সময় | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • যে পুকুর থেকে উদ্ধার ১২ বছরের কিশোরীর দেহ, তার অদূরে থাকা ঝুপড়িতেই চলত নানা দুষ্কর্ম। অভিযোগ, ওই ঝুপড়িতেই নিয়মিত বসত মদ ও গাঁজার আসর। সেটাই কি অকুস্থল? বারুইপুরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে নানা তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নাবালিকাকে মদ-গাঁজার ঠেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের পরে জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে কিশোরীকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

    বারুইপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণ এবং খুনের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের পাশাপাশি প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার নামে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    তদন্তকারীদের দাবি, প্রভাস নামে এক অভিযুক্ত কৌশলে নাবালিকাকে ভুলিয়ে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিল আনন্দ ও দিবাকর নামে আরও দুই অভিযুক্ত। অভিযোগ, তিনজনই সেখানে বসে নেশা করে এবং তার পরে নাবালিকার উপরে শারীরিক নির্যাতন চালায়।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতনের সময়ে নাবালিকার গলায় পা তুলে দিয়েছিল এক অভিযুক্ত। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও মিলেছে এমনই আঘাতের তথ্য। গোপানাঙ্গে গুরুতর আঘাত ছাড়াও মাথাতেও ছিল আঘাত। সম্ভবত মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল ওই কিশোরীকে অথবা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল মাথা। নারকীয় অত্যাচারের পরে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে কিছুক্ষণ ওই ঝুপড়িতেই ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত গভীর হলে দেহ সরানোর পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা। তার আগে অচেতন, আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুপড়িতেই ফেলা রাখা হয়েছিল নাবালিকাকে। তখনও জীবিত ছিল সে। আর এখানেই পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করছেন কিশোরীর পরিবার ও আত্মীয়েরা। সে সময়ে খোঁজ শুরু হলে হয়তো জীবিত উদ্ধার করা যেত নাবালিকাকে। এ দিকে তদন্তে জানা গিয়েছে, রাত নামতেই অচেতন নাবালিকার দেহ লোপাটের উদ্যোগ নেয় অভিযুক্তরা। প্রথমে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দেহ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বস্তাটি ছিঁড়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলের কাছের পুকুরেই দেহ ফেলে দেওয়া হয় এবং বস্তাটি দিয়ে তা চাপা দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের ধারণা, নির্যাতন ও আঘাতের জেরে নাবালিকা অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থাতেই তাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিংয়ের কথা, অর্থাৎ পুকুরে ফেলার সময়েও কিশোরী বেঁচে ছিল। অর্থাৎ, তাকে জীবিত অবস্থায় জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে আঘাত পেয়ে ও জলে ডুবেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কারণ, কিশোরীর ফুসফুস ও পাকস্থলীতে প্রচুর জল পাওয়া গিয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ।

    পুলিশের দাবি, দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার পরে তিন অভিযুক্ত আলাদা আলাদা পথে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় প্রভাস, আনন্দ ও দিবাকরকে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। ভিসেরা রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।

  • Link to this news (এই সময়)