• 'শাস্তি হবেই',বারুইপুরে গিয়ে আশ্বাস দিলেন অগ্নিমিত্র
    আজকাল | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার বারুইপুর গিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেখানে হাজির বিজেপির প্রতিনিধিরাও। মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, লকেট চ্যাটার্জি, কেয়া ঘোষ বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন। কথা বলেন নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে। কিছুটা সময়ে কাটিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, "অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আগের সরকার এমন ঘটনার পর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করত না। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বারবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোটা গ্রাম সরকারের উপর আস্থা রাখছে। আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আসিনি, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের সাহস জোগাতেই এসেছি।”"

    বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জি বলেন, "পরিবর্তনের বাংলায় আমরা চাই সবাই শাস্তি পাক। চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হবে।" লকেটেরও দাবি, সরকারি তৎপরতা ও প্রসাসনের ভূমিকায় শোকগ্রস্ত পরিবার সন্তুষ্ট।

    সোমবারই বারুইপুরের ঘটনায় দোষীদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি ছিল, নির্যাতিতার পরিবারের দাবি অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।

    এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তদন্তে আইজি-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে পৌঁছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তে কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট নেবেন। এরপর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের দাবি-দাওয়া এবং সরকারের তরফে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন।

    বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে গত শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকা। অনেক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি করে। রাতেই সিসিটিভি ফুটেজে চার জনের সঙ্গে ওই নাবালিকাকে দেখা যায়। তবে, রবিবার সকালে ধবধবি ও সূর্যপুর স্টেশনের মাঝামাঝি একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা দেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখায়। পরে গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তিন জন আটক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গোটা ঘটনার তদন্ত করছে।

     
  • Link to this news (আজকাল)