বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ঠিক কী ঘটেছে, তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, কীভাবে তদন্ত চলছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট DGP-র কাছে চাইল মহিলা কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ এবং তার পরবর্তী গণহিংসার ঘটনাকে ঘিরে প্রকাশিত অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলির ভিত্তিতে জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে ঘটনার নোটিশ নিয়েছে। অন্যদিকে আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চাইল জাতীয় মহিলা কমিশন
বারুইপুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চেয়েছে মহিলা কমিশন। ৭ দিনের মধ্যে পুলিশকে রিপোর্ট দিতে হবে বলেও নোটিশ দিয়েছে কমিশন। শুধু কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনাই নয়, তারপরে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা ও হিংসার ঘটনারও রিপোর্ট তলব করা হয়েছে কমিশনের তরফে। কমিশন ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছে। পাশাপাশি গণপিটুনির ঘটনায় কী তদন্ত হয়েছে, জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, পুলিশের কোনও গাফিলতি বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও পূর্ণাঙ্গ ফরেন্সিক ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা এবং নির্যাতিতার পরিবারের জন্য চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কী ব্যবস্থা করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
বারুইপুরে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে, আশ্বাস শুভেন্দুর
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, বারুইপুরে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। পাশাপাশি গণপিটুনির ঘটনায় সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রসঙ্গ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটে হেরেই বারুইপুরে গোলমাল পাকিয়েছে বিরোধীরা। শুভেন্দু বলেন, 'বাবা যা যা চেয়েছেন, সব করবে মুখ্যমন্ত্রী। আমি খুশি, ওঁরা আস্থা রেখেছেন। বাকি যাঁরা অতৃপ্ত আত্মা রয়েছেন, ভোটে হেরে যাঁরা ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন, এখনও ঘরে রয়েছেন, তিন জন মিলে যে তিনটে কাণ্ড করেছেন, তাঁদেরও ভুগতে হবে। এমন ভোগাব বুঝতে পারবে।'
মমতাকে হাউস অ্যারেস্ট
বস্তুত, সোমবারই বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিল করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি যাতে বারুইপুরে না যেতে পারেন, তাই তাঁকে পুলিশ ও সিআরপিএফ দিয়ে হাউস অ্যারেস্ট করা হয়েছে। মমতাকে যে হাউস অ্যারেস্টই করা হয়েছে,তা কার্যত স্বীকারই করেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, 'মমতাকে কেন হাউস অ্যারেস্ট করা হবে না? গত ১৫ বছরে প্রতিদিন প্রতি মিনিটে যখন মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েছিল, তখন উনি উন্নাওতে ওঁর টিম পাঠিয়েছিলেন। উনি মণিপুরে পাঠিয়েছিলেন। আমাদের বাংলার গ্রামে গ্রামে লোক পাঠাননি। লোক পাঠানো তো দূরের কথা, ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।'