• ফুটবল ম্যাচ ঘিরে কিশোরকে কুপিয়ে খুন! বারুইপুরের দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ্যে
    News18 বাংলা | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • ফুটবল ম্যাচে জয়ের বদলা নিতে ১৭ বছরের কিশোরকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ৷ বারুইপুরে নিহত কিশোরের বাড়িতে শোকের ছায়া৷ দোষীদের ফাঁসির দাবিতে পরিবার ও প্রতিবেশীরা৷ ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা। পরিবারের অভিযোগ, গতকাল প্রসেনজিৎকে তাঁর বন্ধু সূর্য্য ফোন করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে কিশোরকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়।

    জানা গিয়েছে, নিহত কিশোরকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ৭:৩০ নাগাদ বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দেখতে পান রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন তিনি।

    সূত্রের খবর, মৃত কিশোরই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। তাঁর মৃত্যুতে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে পরিবার। নিহতের বাবা-মায়ের একটাই দাবি,এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসির সাজা দিতে হবে। এদিকে, ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীও। পাড়া-প্রতিবেশীদের দাবি, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুরের পালপাড়া এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। দশম শ্রেণির পড়ুয়া প্রসেনজিতের বাড়ি ফুলতলা এলাকায়। দিন দুয়েক আগে ফুলতলার মাঠে ফুটবল খেলার সময় এলাকার কয়েকজন যুবকের সঙ্গে প্রসেনজিৎ ও তার বন্ধুদের ঝামেলা হয়।

    অভিযোগ, সেই ঝামেলার ‘বদলা’ নিতেই সোমবার ওই তিন যুবক প্রসেনজিৎ ও তার এক বন্ধুকে পালপাড়া এলাকায় ডেকে পাঠায়। সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে। বচসার মাঝেই ওই তিনজন প্রসেনজিৎ ও তার বন্ধুকে লক্ষ করে ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রসেনজিতের বুকে আঘাত লাগে। তার বন্ধুও জখম হয়।

    অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে অভিযুক্ত তিন যুবকই প্রসেনজিৎকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে হাসপাতালে জড়ো হন প্রসেনজিতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। বিপদ বুঝে অভিযুক্ত তিন যুবক হাসপাতালের ভিতরে থাকা পুলিশ কিয়স্কে আশ্রয় নেয়। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা কিয়স্ক ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। তিনজনকে বের করে দেওয়ার দাবি ওঠে। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে বিক্ষোভকারীরা হাসপাতালের সামনে কুলপি রোড অবরোধ করেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)