নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের তিন রাজ্যসভার উপনির্বাচন ঘোষণা করে দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৪ জুলাই রাজ্যের বিধানসভায় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪ টে পর্যন্ত হবে ভোটগ্রহণ। ভোটদাতা বিধায়করা। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব ইস্তফা দেওয়াতেই খালি হয়েছে তিনটি আসন। তাই উপনির্বাচনে যাঁরাই জিতবেন, তাঁদের মেয়াদ ছ’ বছরের জন্য হবে না। দুটি আসনের মেয়াদ ২০২৯ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। একটির ২০৩০ সালের ২ এপ্রিল। ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়া শুরু হবে ৭ জুলাই অর্থাৎ আজ থেকেই। ১৪ তারিখ পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ জুলাই।
এবার নির্বাচন কমিশন তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পৃথকভাবে তিনটি আসনে নির্বাচন হবে। ফলে রাজ্যসভার একজন প্রার্থীকে জয়ী হতে গেলে প্রয়োজন হবে ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন। রাজ্যসভার ভোট নিয়ে যাঁরা তদারকি করেন, বিধানসভার সেই আধিকারিকদের বক্তব্য, নন্দীগ্রাম ও নওদা আসনে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাঁরা পদত্যাগ করায় এখন রাজ্যে মোট বিধায়ক সংখ্যা ২৯২। যেহেতু রাজ্যসভার ভোট পৃথকভাবে হচ্ছে, তাই প্রার্থীকে জিততে ২৯২-এর অর্ধেকের সঙ্গে এক যোগ অর্থাৎ ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হবে। এখন বিজেপির মোট বিধায়ক সংখ্যা ২০৮। তার ধারে কাছে নেই তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্রোহী তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যসভার আসনে জয়ী হওয়ার জন্য আমাদের কাছে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিধায়ক সংখ্যা নেই। তাই প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্নও নেই। কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূলের বিধায়করা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ভাবা যেত। এখন তো পরিস্থিতি ভিন্ন। ফলে তৃণমূলের কোনো শিবিরই প্রার্থী দেবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। এদিকে, সূত্রের খবর তৃণমূল ত্যাগী সুখেন্দু শেখর রায় রাজ্যসভার নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন।