চম্পতদের ইস্তফা গৃহীত, রামমন্দিরে সিইও নিয়ে ট্রাস্ট-কেন্দ্র সংঘাত শুরু
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রামমন্দির কাণ্ডে সরকার ও ট্রাস্টের সংঘাত শুরু!
প্রণামির টাকা নয়ছয়ে এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি বিব্রত ও ব্যাকফুটে কেন্দ্র এবং অবশ্যই উত্তরপ্রদেশ সরকার। কারণ রামমন্দির নির্মাণপর্বে দুই সরকারই ছিল অতিসক্রিয় এবং কৃতিত্বের দাবিদার। স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের লাগাতার নিশানায় বিজেপি এবং ডবল ইঞ্জিন। আর তাই কেন্দ্র ও রাজ্য চাইছে, রামমন্দির পরিচালন প্রক্রিয়া আমূল বদলে ফেলা হোক। নজরদারিতে বাড়ানো হোক পেশাদারিত্ব। সেইমতোই স্থির হয়েছিল, এক কেন্দ্রীয় আধিকারিক অথবা অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্তাই হবেন রামমন্দির তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও)। ট্রাস্টে নতুন সিইও বসানোর প্রস্তাব প্রকটভাবেই ট্রাস্টের বর্তমান কাঠামোর প্রতি অনাস্থা। কারণ কেন্দ্র, বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর রামমন্দির ট্রাস্টের পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ। তাই তারা চাইছে, সরাসরি কেন্দ্রীয় নজরদারি থাকবে মন্দির পরিচালন প্রক্রিয়ায়। কিন্তু সেই প্রস্তাব এখনই কার্যকর করতে নারাজ ট্রাস্ট। সোমবার রামমন্দির ট্রাস্টের বৈঠক হয়েছে। সেখানে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্রর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। তৎক্ষণাৎ অস্থায়ী সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে কৃষ্ণ মোহনকে। নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে শোনা যাচ্ছে বজরং বাগরার নাম। তবে ট্রাস্টকে সবথেকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন ৮৮ বছরের রামজন্মভূমি ন্যাসের প্রধান, রামমন্দির আন্দোলনের সবথেকে পুরানো সন্ন্যাসী মোহন্ত নৃত্যগোপাল দাস। বৈঠকের আগেই চিঠি লিখে তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ঘটনায় বেদনাহত। দোষীদের চরমতম সাজা হওয়া দরকার। এভাবে কোটি কোটি মানুষের আস্থার সঙ্গে কারা খেলা করল? তাদের ক্ষমা নেই।’
প্রশ্ন উঠছে, সিইও নিয়োগে কেন রামমন্দির ট্রাস্ট রাজি হচ্ছে না। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হলে ট্রাস্টের গাফিলতি ও আঁতাত ফাঁস হয়ে যাবে বলে? বৈঠকে ট্রাস্টের একাংশ এখনই সিইও নিয়ে সিদ্ধান্তের পক্ষে নয় বলে জানিয়ে দেন। অর্থাৎ সংঘাত স্পষ্ট। কেন্দ্র চাইছে দ্রুত এই বিতর্কে অবসান হোক। উল্লেখ্য, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ সংঘ পরিবার বেশ কিছু বছর ধরে মন্দির পরিচালনায় সরকারি হস্তক্ষেপ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এসেছে। অর্থাৎ সব মন্দির হবে স্বশাসিত ও ট্রাস্ট চালিত। কিন্তু রামমন্দির থেকে বদ্রীনাথ। একের পর এক মন্দিরে চুরির ঘটনায় সেই দাবি আপাতত বিশ বাঁও জলে। কারণ, এরপর সরকার চাইছে আরও বেশি প্রশাসনিক নজরদারি।